আশরাফুল ল্যাবরেটরীজের বিরুদ্ধে অপপ্রচার ও অভিযোগ প্রত্যাখ্যান চেয়ারম্যানের
'সব অভিযোগই ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, প্রমাণ করতে পারলে এক লাখ টাকা পুরস্কার'
নিজস্ব প্রতিবেদক:
আশরাফুল ল্যাবরেটরীজ লিমিটেডের বিরুদ্ধে সম্প্রতি বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত অভিযোগকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং প্রতিষ্ঠানের সুনাম ক্ষুণ্ন করার অপচেষ্টা বলে দাবি করেছেন প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক হাকিম মোঃ আশরাফুল ইসলাম লিটন।
প্রতিবেদকের সঙ্গে একান্ত আলাপকালে তিনি বলেন, "আশরাফুল ল্যাবরেটরীজ লিমিটেড শতভাগ বৈধভাবে, সরকারের প্রচলিত আইন, বিধিমালা এবং সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক সংস্থার নির্দেশনা অনুসরণ করে পরিচালিত হচ্ছে। আমাদের নিজস্ব ভেষজ বাগান থেকে সংগৃহীত কাঁচামাল এবং স্বীকৃত আয়ুর্বেদিক ও ইউনানী চিকিৎসা ফর্মুলা অনুযায়ী ওষুধ উৎপাদন ও বাজারজাত করা হয়। কোথাও কোনো ধরনের অনিয়ম বা অবৈধ কর্মকাণ্ড পরিচালিত হয় না।
নিয়োগের নামে নিরাপত্তা জামানত গ্রহণের অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, "আমাদের প্রতিষ্ঠানে চাকরির নামে কারও কাছ থেকে অবৈধভাবে কোনো জামানত নেওয়া হয় না। কেউ যদি সুনির্দিষ্ট প্রমাণসহ দেখাতে পারেন যে আশরাফুল ল্যাবরেটরীজ লিমিটেড চাকরির নামে অর্থ আত্মসাৎ বা প্রতারণা করেছে, তাহলে আমি ব্যক্তিগতভাবে সেই ব্যক্তিকে এক লাখ টাকা পুরস্কার প্রদান করব।
তিনি আরও বলেন, আশরাফুল ল্যাবরেটরীজ লিমিটেড শুধু একটি ওষুধ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান নয়, বরং স্বাস্থ্যসেবা ও মানবকল্যাণে নিবেদিত একাধিক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে মানুষের সেবা করে আসছে। প্রতিষ্ঠানের আওতায় মরহুম আমজাদ হোসেন দাতব্য চিকিৎসালয়, হাবিব ইউনানী ও আয়ুর্বেদিক ঔষধালয় এবং আশরাফুল হারবাল অ্যান্ড নিউট্রাসিউটিক্যালস পরিচালিত হচ্ছে বলে তিনি জানান।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, এসব প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বিশেষ করে দরিদ্র, অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত রোগীদের নিয়মিত বিনামূল্যে চিকিৎসা, স্বাস্থ্যপরামর্শ এবং বিভিন্ন জটিল ও দীর্ঘমেয়াদি রোগের চিকিৎসাসেবা প্রদান করা হচ্ছে। তিনি দাবি করেন, অসংখ্য রোগী এসব সেবা থেকে উপকৃত হয়েছেন।
নিজের পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধির বিষয়ে হাকিম মোঃ আশরাফুল ইসলাম লিটন বলেন, সম্প্রতি তিনি ভেষজ ও সমন্বিত চিকিৎসা বিষয়ে উচ্চতর প্রশিক্ষণ গ্রহণের উদ্দেশ্যে গণপ্রজাতন্ত্রী চীন সফর করেছেন। আন্তর্জাতিক পর্যায়ের জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে দেশের মানুষের জন্য নিরাপদ, কার্যকর ও মানসম্মত ভেষজ ওষুধ উৎপাদনে তিনি কাজ করে যাচ্ছেন বলে জানান।
তিনি বলেন, "আমার বিরুদ্ধে এবং আমার প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে যে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে, তা একটি সুপরিকল্পিত ষড়যন্ত্রের অংশ। কিছু অসাধু মহল উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করছে।
এ সময় তিনি দেশের ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তর (DGDA), জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থা, গণমাধ্যমকর্মী এবং সাধারণ জনগণকে আশরাফুল ল্যাবরেটরীজ লিমিটেডের কারখানা, গবেষণাগার, উৎপাদন কার্যক্রম এবং প্রশাসনিক অফিস সরেজমিনে পরিদর্শনের আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, "যে কেউ আমাদের প্রতিষ্ঠানে এসে উৎপাদন ব্যবস্থা, গবেষণাগার, মান নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম এবং অফিস পরিদর্শন করতে পারেন। তাহলেই বুঝতে পারবেন আমরা কতটা স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও আইন মেনে প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করছি।
স্থানীয়ভাবে সুপরিচিত এই উদ্যোক্তা আরও বলেন, যশোর ও ঝিনাইদহ অঞ্চলে ভেষজ চিকিৎসা ও সামাজিক সেবামূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে মানুষের আস্থা অর্জনের চেষ্টা করে যাচ্ছেন তিনি। এলাকার অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং স্বাস্থ্যসেবাকে আরও সহজলভ্য করাই তার মূল লক্ষ্য।
পরিশেষে হাকিম মোঃ আশরাফুল ইসলাম লিটন বলেন, "আমি সত্য, ন্যায়, স্বচ্ছতা এবং আইনের শাসনে বিশ্বাসী। সকল অপপ্রচার ও মিথ্যা অভিযোগের বিচার মহান আল্লাহর ওপর ছেড়ে দিলাম। সত্য একদিন অবশ্যই প্রতিষ্ঠিত হবে। আমি দেশবাসীর সুস্বাস্থ্য, শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করছি।
উল্লেখ্য, আশরাফুল ল্যাবরেটরীজ লিমিটেডের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ প্রকাশিত হওয়ার পর প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে সব অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে এবং যে কোনো নিরপেক্ষ ও আইনানুগ তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, প্রকৃত সত্য উদঘাটনে তারা সব ধরনের তদন্তে সহযোগিতা করতে প্রস্তুত।
প্রকাশক ও সম্পাদক, মোঃ জিল্লুর রহমান,০১৮৫৯-৬৬৭৬০২,০১৭০৭-৫০১৪১৪নি,র্বাহী সম্পাদক, মোঃ আঃ রাজ্জাক সরকার, বার্তা সম্পাদক, মোঃ রতন মন্ডল
প্রধান কার্যালয়ঃ মিরপুর ১২ ঢাকা ১২১৬,mail: jillumia87@gmail.com
Copyright © 2026 দুর্নীতির তালাশ টিম. All rights reserved.