জামায়াত সমর্থিত মেম্বার পদপ্রার্থী জুলহকের বিরুদ্ধে কুচক্রী মহলের অপপ্রচার।
মোঃ হামিদুজ্জামান জলিল স্টাফ রিপোর্টার।
ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর উপজেলার সাফদারপুর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের জামায়াত সমর্থিত মেম্বার পদপ্রার্থী মো. জুলহক আলীর (৪০) ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হয়ে তাকে রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার এক হীন ষড়যন্ত্রের অভিযোগ উঠেছে। অসৎ উদ্দেশ্য হাসিলে একটি স্বার্থান্বেষী মহল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কাল্পনিক ও ভিত্তিহীন অপপ্রচার চালিয়ে তার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার অপচেষ্টায় মেতে উঠেছে। দিনভর মাঠপর্যায়ের নিরপেক্ষ অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে ঘটনার আসল সত্য এবং উন্মোচিত হয়েছে ষড়যন্ত্রকারীদের 'থলের বিড়াল'।অনুসন্ধানে জানা যায়, আনুমানিক ১১টা ৪২ মিনিটের দিকে সাফদারপুর গ্রামের মো. মোজাম্মেল হকের ছেলে মো. জুলহক আলী তার বন্ধু সোহেল হোসেনের বাড়িতে যান। তার একমাত্র উদ্দেশ্য ছিল বন্ধু সোহেলের শালক বিপ্লবের বিয়ের বার্তাটি পৌঁছে দেওয়া।বাড়ির সামনে পৌঁছে জুলহক বাইরে থেকে ডাকাডাকি করলে ঘরে থাকা সোহেলের অসুস্থ মা ও পরিবার-পরিজন তাকে ভেতরে আসতে বলেন। তখন ঘরে সবাই জাগ্রত ছিলেন। প্রত্যক্ষদর্শী ও পরিবারসূত্রে জানা যায়, জুলহক ঘরের ভেতরে প্রবেশ করে মাত্র ২ থেকে ৩ মিনিট বিয়ের বিষয়টি নিয়ে কথা বলছিলেন। ঠিক সেই মুহূর্তে পূর্বপরিকল্পিতভাবে ওঁৎ পেতে থাকা একই ওয়ার্ডের প্রতিদ্বন্দ্বী মেম্বার পদপ্রার্থী আল আমিনের সমর্থক হিসেবে পরিচিত মাহবুব মন্ডল, ছালেকসহ কয়েকজন হুট করে ঘরে ঢোকেন। তারা জুলহককে জোরপূর্বক ধরে টেনে-হিঁচড়ে সাফদারপুর বাজারে নিয়ে যান। সেখানে অন্যায়ভাবে তার ওপর চড়াও হয়ে মারধর করা হয় এবং পরনের জামাকাপড় ছিঁড়ে ফেলা হয়। সকালে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ লোকমুখে ছড়িয়ে দেওয়া হয় যে, অসামাজিক কাজে লিপ্ত থাকা অবস্থায় জুলহককে আটক করে মারধোর করা হয়েছে—যা সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে অনুসন্ধানে প্রমাণিত হয়েছে।
ঘটনার বিষয়ে সোহেলের মা শখের বানু ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন:"জুলহক আমাদের বাড়িতে এসে মাত্র ২-৩ মিনিট দাঁড়িয়ে আমাদের সাথে কথা বলছিল। আমরা সবাই জেগে ছিলাম। ছেলেটি অত্যন্ত ভালো ও সৎ। তার নামে যে ধরনের কুৎসিত অপবাদ দিয়ে বাজারে নিয়ে মারধোর করা হয়েছে, তা চরম অন্যায়। আমরা এর তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি।"একই বিষয়ে কথা হয় সোহেলের স্ত্রী রেকসোনার সাথে। তিনি পুরো ঘটনার বিবরণ দিয়ে বলেন:"আমার স্বামী ব্যবসার কাজে ঢাকায় থাকেন এবং ঘটনার দিন সকালে তিনি ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হন। আমার শ্বশুরও কাজের সূত্রে বাইরে ছিলেন। বাড়িতে আমার প্যারালাইসিস আক্রান্ত শাশুড়ী, একমাত্র ছোট ছেলে ও আমি ছিলাম। গভীর রাতে জুলহক ভাই এসে বাইর থেকে ডাক দিলে শাশুড়ীর কথায় আমি দরজা খুলে দিই। জুলহক ভাই ঘরে দাঁড়িয়ে আমার ভাই বিপ্লবের বিয়ের বিষয়ে কথা বলছিলেন। তখন হঠাৎ দু’জন লোক এসে তাকে ধরে নিয়ে যায় এবং পরবর্তীতে বাজারে নিয়ে আমার সাথে অনৈতিক কাজের কাল্পনিক গল্প বানিয়ে মারধোর করে। আমাদের পরিবারকে জড়িয়ে তার বিরুদ্ধে যে কুৎসিত অপবাদ দেওয়া হয়েছে, আমি তার তীব্র নিন্দা ও ধিক্কার জানাচ্ছি।"ঘটনার সময় ঘরে উপস্থিত থাকা শিশু আছিয়া খাতুন (১১) ও আফ্রিন খাতুনও (৭) একই বিবরণ দেয়।নিজের বিরুদ্ধে ওঠা এই ন্যক্কারজনক ষড়যন্ত্রের বিষয়ে মেম্বার পদপ্রার্থী মো. জুলহক আলী বলেন:
"আসন্ন স্থানীয় নির্বাচনে ২ নম্বর ওয়ার্ডে আমার পক্ষে ব্যাপক জনসমর্থন তৈরি হওয়ায় প্রতিদ্বন্দ্বী পদপ্রার্থী ও তার সমর্থিত স্বার্থান্বেষী মহল দিশেহারা হয়ে পড়েছে। মূলত নির্বাচনে আমাকে পিছিয়ে দিতে এবং সামাজিকভাবে আমার চরিত্রহনন করতে এই সাজানো নাটক ও অপপ্রচার চালানো হয়েছে। যারা আমার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করেছে, তাদের বিরুদ্ধে আমি খুব শিগগিরই কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেব।"
অভিযোগের বিষয়ে জানতে প্রতিদ্বন্দ্বী মেম্বার পদপ্রার্থী আল আমিনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি সকল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন:"জুলহকের সাথে আমার কোনো ব্যক্তিগত বা নির্বাচনী শত্রুতা থেকে এমন ঘটনা ঘটানো হয়নি। বাজারে যা ঘটেছে তা স্থানীয় লোকজনের মাধ্যমে ঘটেছে, এতে আমার কোনো ইন্ধন নেই। আমার বিরুদ্ধে আনা অপপ্রচারের অভিযোগ সত্য নয়।"তবে সাফদারপুর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের সর্বস্তরের সচেতন নাগরিক ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, জুলহক আলী একজন পরিচ্ছন্ন ও সমাজসেবক ভাবমূর্তির মানুষ। নির্বাচনের মুখেই কেন এমন কাল্পনিক অভিযোগ এনে তাকে হেনস্তা করা হলো—তা এখন সবার কাছে স্পষ্ট। নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে এই চক্রান্তের পেছনের মূল হোতাদের চিহ্নিত করে কঠোর আইনি ব্যবস্থার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সাধারণ জনগণ।
প্রকাশক ও সম্পাদক, মোঃ জিল্লুর রহমান,০১৮৫৯-৬৬৭৬০২,০১৭০৭-৫০১৪১৪নি,র্বাহী সম্পাদক, মোঃ আঃ রাজ্জাক সরকার, বার্তা সম্পাদক, মোঃ রতন মন্ডল
প্রধান কার্যালয়ঃ মিরপুর ১২ ঢাকা ১২১৬,mail: jillumia87@gmail.com
Copyright © 2026 দুর্নীতির তালাশ টিম. All rights reserved.