চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার ভূজপুর ইউনিয়নের শিকদারপাড়ার একটি জরাজীর্ণ ভাঙা ঘর। সেই ঘরেই আজ সীমাহীন কষ্ট আর অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটছে চারটি নিষ্পাপ শিশুর। কয়েকদিন আগেও এই ঘরটিতে ছিল একজন সংগ্রামী বাবা, যার স্বপ্ন ছিল নিজের সন্তানদের মানুষ করার। কিন্তু হঠাৎ ব্রেইন স্ট্রোকে মৃত্যুর পর মুহূর্তেই বদলে গেছে পুরো পরিবারের জীবন।
পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি মোহাম্মদ হাশেম স্থানীয় মির্জারহাট বাজারে একটি ছোট দোকান চালিয়ে কোনো রকমে সংসার চালাতেন। আয় ছিল সীমিত, তবুও সন্তানদের পড়াশোনা করিয়ে ভালো মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার স্বপ্ন কখনো ছাড়েননি। কিন্তু নির্মম নিয়তি সেই স্বপ্নগুলোকে অসমাপ্ত রেখেই তাকে পৃথিবী থেকে বিদায় করে দেয়।
আজ তার চার সন্তান—তাকওয়া, হানি, তৌকির ও জান্নাত—বাবার অভাব বুঝে উঠতে না পারলেও প্রতিদিন দরজার দিকে তাকিয়ে থাকে। তাদের বিশ্বাস, বাবা হয়তো কাজ শেষে আগের মতোই খাবার নিয়ে ঘরে ফিরবেন। কিন্তু সেই অপেক্ষা আর কোনোদিন শেষ হবে না।
পরিবারের বড় সন্তান ইতোমধ্যেই জীবনের কঠিন বাস্তবতা বুঝতে শুরু করেছে। ছোট ভাইবোনেরা এখনো জানে না, তাদের বাবা আর কখনো ফিরে আসবেন না। অন্যদিকে মা ও বৃদ্ধ দাদি অসহায় হয়ে সমাজের মানবিক মানুষের দিকে তাকিয়ে আছেন। মাথার ওপরের ভাঙা ঘর, সংসারে কোনো স্থায়ী আয় নেই, নেই জমিজমা বা অন্য কোনো সহায়-সম্বল।
স্থানীয় বাসিন্দারাও জানিয়েছেন, হাশেমের মৃত্যুর পর পরিবারটি চরম সংকটে পড়েছে। চারটি শিশুর ভবিষ্যৎ নিয়ে তারা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং সমাজের বিত্তবান ও সহৃদয় মানুষদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন।
হাশেমের স্ত্রী চোখের পানি ধরে রাখতে না পেরে অনুরোধ করেছেন, অন্তত তাদের মাথা গোঁজার একটি নিরাপদ ঘর তৈরি করে দিতে এবং চারটি শিশুর পড়াশোনা ও খাবারের ব্যবস্থা করতে। একই আকুতি জানিয়েছেন বৃদ্ধা মাও। সন্তানের মৃত্যু এবং নাতি-নাতনিদের অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ তাকে প্রতিনিয়ত কাঁদিয়ে চলেছে।
একটি ব্রেইন স্ট্রোক শুধু একজন মানুষের জীবনই কেড়ে নেয়নি, কেড়ে নিয়েছে চারটি শিশুর শৈশবের হাসি, একটি মায়ের শেষ ভরসা এবং এক বৃদ্ধ মায়ের জীবনের অবলম্বন। এখন এই পরিবারটি অপেক্ষা করছে কিছু মানবিক হাতের, যারা হয়তো তাদের অন্ধকার জীবনে নতুন করে আশার আলো জ্বালাতে পারে।
চারটি নিষ্পাপ শিশুরও স্বপ্ন আছে। তাদেরও স্কুলে যাওয়ার ইচ্ছে আছে, বাবার স্নেহ পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা আছে, সুন্দর একটি ভবিষ্যতের অধিকার আছে। কিন্তু আজ তারা শুধু নীরবে অপেক্ষা করে—হয়তো কোনো অলৌকিক ঘটনায় বাবা আবার ফিরে আসবেন। অথচ বাস্তবতা হলো, সেই অপেক্ষার আর কোনো শেষ নেই।
চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার ভূজপুর ইউনিয়নের শিকদারপাড়ার একটি জরাজীর্ণ ভাঙা ঘর। সেই ঘরেই আজ সীমাহীন কষ্ট আর অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটছে চারটি নিষ্পাপ শিশুর। কয়েকদিন আগেও এই ঘরটিতে ছিল একজন সংগ্রামী বাবা, যার স্বপ্ন ছিল নিজের সন্তানদের মানুষ করার। কিন্তু হঠাৎ ব্রেইন স্ট্রোকে মৃত্যুর পর মুহূর্তেই বদলে গেছে পুরো পরিবারের জীবন।
প্রকাশক ও সম্পাদক, মোঃ জিল্লুর রহমান,০১৮৫৯-৬৬৭৬০২,০১৭০৭-৫০১৪১৪নি,র্বাহী সম্পাদক, মোঃ আঃ রাজ্জাক সরকার, বার্তা সম্পাদক, মোঃ রতন মন্ডল
প্রধান কার্যালয়ঃ মিরপুর ১২ ঢাকা ১২১৬,mail: jillumia87@gmail.com
Copyright © 2026 দুর্নীতির তালাশ টিম. All rights reserved.