সুন্দরবনের জেলেরা নিষেধাজ্ঞা কালীন
এই প্রথমবার পাচ্ছে খাদ্য সহায়তা
এস এইচ রতন,বাগেরহাট
বছরের পর বছর ধরে দীর্ঘ বঞ্চনার পর বর্তমান সরকার এই প্রথমবার,সুন্দরবনের জেলেদের জন্য নিষেধাজ্ঞাকালীন খাদ্য সহায়তার বরাদ্দ করেছেন। মৎস্য আহরণে তিন মাসের নিষিদ্ধ সময়ে সুন্দরবনের উপর নির্ভরশীল তালিকাভূক্ত বেকার ৮ হাজার ২৭১ জেলের জীবনযাত্রা নির্বাহের জন্য এবারই প্রথম ৬৬১ দশমিক ৬৮ মেট্রিক টন ভিজিএফ চাল বরাদ্দ দেয়া দেয় হয়েছে। বন মন্ত্রণালয়েল প্রচেষ্টায় বাগেরহাট, খুলনা ও সাতক্ষীরা জেলার ১২টি উপজেলার তালিকাভূক্ত এসব জেলেরা জুলই ও আগষ্ট মাসে জনপ্রতি পাবেন ৪০ কেজি করে সর্বমোট ৮০ কেজি চাল।
বন পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম এতথ্য নিশ্চিত করে জানান, ২০২০ সাল থেকে সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্যে সংরক্ষনে প্রতি বছর জুন, জুলাই ও আগষ্ট এই তিন মাস মাছ ধরা বন্ধসহ সব ধরনের বনজীবী ও পর্যটকদের ওয়ার্ল্ড হ্যরিটেজ সাইড এই ম্যানগ্রোভ বনে প্রবেশ সম্পূর্ণ ভাবে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়। সে অনুয়ায়ী বর্তমানে সুন্দরবনে মাছ ধরায় তিন মাসের নিষেধাজ্ঞা চলমান রয়েছে। বন বিভাগের এ নিষেধাজ্ঞার ফলে বেকার হয়ে পড়েছে সুন্দরবনের উপর নির্ভরশীল হাজার হাজার জেলে। এসব জেলেরা এই সময়ে দারুন অর্থ কষ্টে থেকে তাদের পরিবারগুলো খেয়ে না খেয়ে এক প্রকার মানবেতর জীবনযাপন করছে। সাগর ও নদীতে মাছ আহরণে নিষিদ্ধ সময়ে জেলেরা মাসে ৪০ কেজি করে চাল পেলেও সুন্দরবনের জেলেদের তা দেয়া হয়নি। সুন্দরবনের জেলেদের মৎস্য আহরণের নিষিদ্ধ সময়ে সরকারি খাদ্য সহায়তা না দিয়ে বছরের পর বছর ধরে তাদের বঞ্চিত করা হয়েছে। বন বিভাগের পরিসংখ্যান অনুযায়ী সুন্দরবনের উপর নির্ভরশীল তালিকাভূক্ত ১৭ হাজার ৫৪০জন জেলে রয়েছে। এরমধ্যে সুন্দরবন পূর্ব বিভাগের বাগেরহাটের শরণখোলা ও চাঁদপাই রেঞ্জে তালিকাভূক্ত জেলে ৮ হাজার ৫৪০ জন এবং সুন্দরবন পশ্চিম বিভাগের খুলনা ও সাতক্ষীরা রেঞ্জে তালিকা ভূক্ত জেলের সংখ্যা ৯ হাজার ৪০০জন। বন মন্ত্রণালয়ে পক্ষ থেকে সুন্দরবনের জেলেদের দীর্ঘ বছরের বঞ্চনার বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর নজরের আনার পর তার নির্দেশে মৎম্য ও প্রাণী সম্পদ মন্ত্রণালয় প্রথমবাবে বাগেরহাট, খুলনা ও সাতক্ষীরা জেলার ১২টি উপজেলার ৮ হাজার ২৭১ জেলের জন্য ৬৬১ দশমিক ৬৮ মেট্রিক টন ভিজিএফ চাল বরাদ্দ দিয়েছে। সুন্দরবনের এসব তালিকাভূক্ত জেলেরা মধ্যে জুলই ও আগষ্ট মাসে জন্য জনপ্রতি পাবেন ৪০ কেজি করে সর্বমোট ৮০ কেজি চাল। সুন্দরবনের তালিকাভূক্ত বাকি জেলেরাও পর্যাক্রমে সরকানি খাদ্য সহায়তার আওতায় আসবেন বলেও জানান বন প্রতিমন্ত্রী
বাগেরহাটের সুন্দরবন পূর্ব বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. রেজাউল করিম চৌধুরী জানান, বন বিভাগের পক্ষ থেকে বছরের পর বছর ধরে অনেক আবেদন ও লেখালেখির পরে বর্তমান সরকার এই প্রথমবার সুন্দরবনের উপর নির্ভরশীল বেকার জেলেদের খাদ্য সহায়তা বরাদ্দ করায় জেলে পরিবারগুলো অনেক উপকৃত হবেন। তবে, সুন্দরবন বিভাগের তালিকাভূক্ত জেলেদের মধ্যে অর্ধেক জেলেদের জন্য চাল বরাদ্দ হয়েছে। আশা করা যায় আগামীতে সকল জেলে পরিবার খাদ্য সহায়তা পাবেন। সুন্দরবনে প্রবেশ নিষিদ্ধ তিন মাসে তালিকাভূক্ত সকল জেলে সরকারের খাদ্য সহয়তা পেলে তাদের কষ্ট লাঘবসহ ওয়ার্ল্ড হ্যরিটেজ সাইড ম্যানগ্রোভ এই বনের জীববৈচিত্র্য সংরক্ষনে সহয়ক হবে বলেও জানান এই ডিএফও।#
বাগেরহাট
২০. ০৭. ২০২
প্রকাশক ও সম্পাদক, মোঃ জিল্লুর রহমান,০১৮৫৯-৬৬৭৬০২,০১৭০৭-৫০১৪১৪নি,র্বাহী সম্পাদক, মোঃ আঃ রাজ্জাক সরকার, বার্তা সম্পাদক, মোঃ রতন মন্ডল
প্রধান কার্যালয়ঃ মিরপুর ১২ ঢাকা ১২১৬,mail: jillumia87@gmail.com
Copyright © 2026 দুর্নীতির তালাশ টিম. All rights reserved.