#বদলি অর্ডারও বাতিল! দুর্নীতির চাকা সচল রাখতে কোন অদৃশ্য শক্তির এত মরিয়া চেষ্টা?
– পলাশবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে কি লুটেরা সিন্ডিকেটের অভয়ারণ্য বানানো হয়েছে?
যেখানে দুর্নীতির দায়ে একজন কর্মকর্তার শাস্তি হওয়ার কথা, সেখানে সরকারি বদলির অর্ডার পর্যন্ত বাতিল করিয়ে আনা হয়! এই ঘটনাটিই প্রমাণ করে যে—পলাশবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দুর্নীতির শিকড় কত গভীরে এবং এর পেছনে কত বড় গডফাদারদের সিন্ডিকেট জড়িত।
নিজেদের লুটপাটের রাজত্ব ধরে রাখতে এবং অবৈধ আয়ের ভাগ বাটোয়ারা সচল রাখতেই এই "অদৃশ্য শক্তি" রাতারাতি বদলি বাতিলের তদবির সফল করেছে। এই চরম দুর্নীতির কিছু বাস্তব প্রমাণ নিচে তুলে ধরা হলো:
🔴 ১. ডায়েট স্কেলের আড়ালে কোটি টাকার হরিলুট:
সরকারি নিয়ম অনুযায়ী রোগীদের দৈনিক খাবারের তালিকা (ডায়েট স্কেল) দৃশ্যমান স্থানে টাঙানো বাধ্যতামূলক। কিন্তু ডা. সালাউদ্দিন অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে এটি গোপন রেখেছেন। কেন? কারণ, তালিকা সামনে থাকলে মানুষ জেনে যাবে যে রোগীদের পাতে দেওয়ার কথা মাছ ও মাংস দুটিই, অথচ দেওয়া হচ্ছে মাত্র একটি! একই দিনে ডাবল বিল তুলে বাকি টাকা সোজা চলে যাচ্ছে পকেটে। শুধু তা-ই নয়, মূল পুষ্টিকর খাবারের বাজেট কমিয়ে জ্বালানি (খড়ি) ও মসলার কাল্পনিক ও অস্বাভাবিক দাম দেখিয়ে সরকারি টাকা হরিলুট করা হচ্ছে। এটি স্রেফ অনিয়ম নয়, এটি সরাসরি রাষ্ট্রীয় অর্থ চুরি!
🔴 ২. কাগজে "ভূতুড়ে রোগী", বাস্তবে ফাঁকা বেড:
হাসপাতালে প্রতিদিন গড়ে ৫০ জন রোগী ভর্তি দেখানো হয় শুধু কাগজে-কলমে। কিন্তু আপনি নিজে ওয়ার্ডে গিয়ে খুঁজলে তার অর্ধেক রোগীও পাবেন না। এই যে বাকি ২৫-৩০ জন "ভূতুড়ে রোগী", এদের বরাদ্দকৃত ওষুধ এবং তিন বেলার খাবারের বাজেট যাচ্ছে কার পকেটে? এই ভুয়া রোগী সাজিয়ে প্রতিদিন সরকারি অর্থ আত্মসাৎ করার নামই কি চিকিৎসা সেবা?
🔴 ৩. হাসপাতালের সম্পদ বিকল করে প্রাইভেট ক্লিনিকের ব্যবসা:
হাসপাতালের এক্স-রে মেশিন বছরের পর বছর নষ্ট, অথচ কাগজ-কলমে এর মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণের নামে নিয়মিত লাখ লাখ টাকার ভুয়া বিল তোলা হচ্ছে। হাসপাতালের দুটি সরকারি অ্যাম্বুলেন্সকে কৃত্রিমভাবে অকেজো বানিয়ে ফেলে রাখা হয়েছে। উদ্দেশ্য একটাই—গরিব রোগীদের যেন চড়া ভাড়ায় বাইরের প্রাইভেট অ্যাম্বুলেন্স নিতে বাধ্য করা যায়, আর সেই প্রাইভেট সিন্ডিকেট থেকে ডা. সালাউদ্দিনের পকেটে মোটা অঙ্কের কমিশন ঢোকে।
🔴 ৪. টেন্ডার ও কেনাকাটায় স্বজনপ্রীতি ও ঘুষ-বাণিজ্য:
হাসপাতালের ওষুধ ও সরঞ্জাম ক্রয়ের টেন্ডারে এমন সব অযৌক্তিক ও কঠিন শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়, যাতে সাধারণ কোনো ঠিকাদার অংশই নিতে না পারে। মূলত একটি নির্দিষ্ট সুবিধাভোগী চক্রকে কাজ পাইয়ে দিতেই এই দুর্নীতির ফাঁদ পাতা হয়, যার বিনিময়ে চলে লাখ লাখ টাকার টেবিল-টক ও পার্সেন্টেজ লেনদেন।
🔴 ৫. বদলি বাতিলের মহানাটক ও রাজনৈতিক ক্ষমতার অপব্যবহার:
একজন সরকারি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে যখন এত এত দুর্নীতির প্রমাণ স্পষ্ট, তখন তাকে বদলি করা হয়েছিল জয়পুরহাটে। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়, দুর্নীতিবাজকে বাঁচাতে মাঠে নেমেছে স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী রাজনৈতিক দালাল চক্র। তারা নিজেদের পকেট ভারী রাখতে এবং ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে এই বদলির অর্ডার বাতিল করিয়েছে। আমরা জানতে চাই, এই নগ্ন লবিংয়ের পেছনে কত টাকার লেনদেন হয়েছে? ক্ষমতার এই অপব্যবহার পলাশবাড়ীর সাধারণ মানুষ আর মেনে নেবে না।
🔴 ৬. দলদাস সাংবাদিকদের নীরবতা ক্রয়:
সমাজে যখন এমন হরিলুট চলে, তখন সাংবাদিকদের কাজ সত্য তুলে ধরা। কিন্তু ডা. সালাউদ্দিনের অবৈধ আয়ের ভাগ পৌঁছে গেছে স্থানীয় কতিপয় অনৈতিক সংবাদকর্মীর পকেটেও। তারা মোটা অঙ্কের অনৈতিক সুবিধা নিয়ে এই ভয়াবহ দুর্নীতি ও জনগণের কষ্টকে ধামাচাপা দিয়ে যাচ্ছেন।
⚖️ আমাদের সোজা কথা এবং কর্তৃপক্ষের প্রতি আবেদন:
আমরা স্পষ্ট ভাষায় বলতে চাই, পলাশবাড়ীর গরিব মানুষের চিকিৎসার টাকা দিয়ে যারা বিলাসী জীবন যাপন করছেন, তাদের রক্ষা করার চেষ্টা করবেন না। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও ঊর্ধ্বতন প্রশাসনের কাছে আমাদের জোর দাবি—অনতিবিলম্বে এই বদলি বাতিলের নেপথ্যের কারণ এবং ডা. সালাউদ্দিনের দুর্নীতির সাম্রাজ্য নিয়ে উচ্চপর্যায়ের নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করা হোক।
পলাশবাড়ীবাসী আজ ঐক্যবদ্ধ। এই লুটপাট ও দুর্নীতির শেষ না দেখে আমরা মাঠ ছাড়ব না। আমাদের হাতে থাকা প্রতিটি অকাট্য প্রমাণ ধাপে ধাপে প্রকাশ করা হবে।
জেগে ওঠো পলাশবাড়ী! রুখে দাঁড়াও দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে!
প্রকাশক ও সম্পাদক, মোঃ জিল্লুর রহমান,০১৮৫৯-৬৬৭৬০২,০১৭০৭-৫০১৪১৪নি,র্বাহী সম্পাদক, মোঃ আঃ রাজ্জাক সরকার, বার্তা সম্পাদক, মোঃ রতন মন্ডল
প্রধান কার্যালয়ঃ মিরপুর ১২ ঢাকা ১২১৬,mail: jillumia87@gmail.com
Copyright © 2026 দুর্নীতির তালাশ টিম. All rights reserved.