নিয়োগ আওয়ামী লীগের আমলে নিজেকে বিএনপি নেতা দাবী করছেন শিক্ষক আবু তাহের; দৌরাত্ম চরমে অলিউর রহমান মিরাজ:
- দিনাজপুর জেলার নবাবগঞ্জ উপজেলার লোকা দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ে কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগের আমলে নিয়োগকৃত প্রধান শিক্ষক মোঃ আবু তাহের মন্ডলের দৌরাত্ম চলছেই। ভোল্ট পাল্টিয়ে তিনি এখন নিজেকে বিএনপি নেতা হিসাবে চলার পায়তারা করছেন। উপজেলার পুটিমারা ইউনিয়নের মতিহারা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক হিসাবে চাকুরীরত অবস্থায় তিনি ২০১১ সালের ৬ ই ফেব্রুয়ারী তৎকালীন আওয়ামীলীগ সরকারের সময় উপজেলার লোকা দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক হিসাবে নিয়োগ পান। যোগদানের পর থেকে তিনি বিদ্যালয়ে একচ্ছত্র অধিপত্যে বিস্তার লাভ করতে থাকেন। নিজের ইচ্ছা মতো ম্যানেজিং কমিটি গঠন। নিজ মনোনীত প্রার্থীকে নিয়োগ প্রদান। নানা অজুহাতে শিক্ষক শিক্ষার্থীদের নিকট থেকে টাকা আদায়। অনিয়মিত বিদ্যালয়ে যাতায়াতসহ নানা অনিয়মের আখড়ায় পরিণত করে তোলেন প্রতিষ্ঠানটি তার শেষের পাতায় দেখুন নিয়োগ আওয়ামী লীগের কোন কালে কেউ প্রতিবাদ কদালেই মামলায় ফেলা অধিনস্তদের শো-কজ বেতন কর্তন করে তিনি নিজেকে জাহির করতেন যে তিনি সব করতে পারেন। জানা যায়, তিনি টিউশন ফি'র টাকার কোন কাজ না করে মিথ্যা ভাউচার দিয়ে অত্মসাৎ করেন। বিদ্যালয়ে নিয়মিত আসেন না থাকেনও না। তিনি মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে তার পছন্দ মতো শিক্ষক ও কর্মচারী নিয়োগ দেন। এমন কি তার শারিরীক ভাবে অসুস্থ ছেলেকেও নিয়োগ প্রদান করেন। যে কিনা মাসে ১/২ দিন কর্মস্থলে এসে সারা মাসের সাক্ষর করে থাকেন ২০২১ সালে এস এস সি'র সব পরিক্ষা না হওয়ায় পরিক্ষার্থীদেরকে ফেরৎ দেয়ার জন্য ১৭ হাজার ১৯০ টাকা তিনি কাউকে ফেরৎ দেননি। তার বিরুদ্ধে শেরনগর গ্রামের ছাত্র অভিভাবক আবু নাসের এ সবের প্রতিবাদ করায় তার ছেলেকে অষ্টম শ্রেণিতে রেজিস্ট্রেশন করতে দেননি। এর প্রতিবাদে ২০২৩ সালে তার বিরুদ্ধে মানববন্ধনের সংবাদ বিভিন্ন ইলেকট্রিক ও প্রিন্ট মিডিয়ায় প্রচার হয়েছিল। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রধান শিক্ষক ওই সময় প্রায় পাঁচ মাস বিদ্যালয়ে না এসেও বেতন ভাতা উত্তোলন করেন। তার দাপটে বিদ্যালয়ে নানা বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হলে পরে গত ১৫ নভেম্বর ২০২৩ সালে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারের অফিসে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ওসি উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক জিয়াউর রহমান মানিক, উপজেলা আওয়ামী লীগের অন্যতম নেতা হাবিবুর রহমান রিপন, স্থানীয় ব্যক্তি নিয়ামত আলী ছাত্র অভিভাবক আবু নাছের, সহকারী শিক্ষক নুর ইসলামের উপস্থিতিতে সভা হয়। সভায় বিভিন্ন সিদ্ধান্তের মধ্যে ২ নভেম্বর সিদ্ধান্তে উল্লখ করা হয় বিদ্যালয়ের সকল শিক্ষক অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের সাথে প্রধান শিক্ষক পক্ষপাতহীন আচরণ করবেন। যে সিদ্ধান্তর কপি উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার দিপক কুমার বনিক সত্যায়িত স্বাক্ষর করেছেন। প্রধান শিক্ষক আবু তাহের তার চাকুরীতে দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয়ে বিএড সনদ ২০০৯ সালের দেখিয়েছেন যার ফলাফল দেখানো হয়েছে সিজিপিএ ৩.১৯। তবে সনদে তার নামের বানান ঠিক নাই। তার ওই সনদ আসল কি না তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে নিরীক্ষা দপ্তরের উপ পরিচালক টুটুল কুমার নাগ বিদ্যালয়টিতে অডিট করেন। সে সময় তিনি প্রধান শিক্ষক আবু তাহের মন্ডলের দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ২০০৯ সালের বিএড সার্টিফিকেটকে বৈধ করলেও ওই বিদ্যালয়ের লাইব্রেরীয়ানের ২০১০ সালে অর্জিত দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয়ের সনদকে গ্রহনযোগ্য নয় বলে তার অভিট রিপোর্টে উল্লেখ করেন। অপরদিকে তার আচরনের কারনে বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যাও হ্রাস পেয়েছে। শেরনগর গ্রামের আবু নাসের জানান, ম্যানেজিং কমিটি নিয়ে অনিয়ম করার কারনে তিনি দিনাজপুর সহকারী জজ আদালতে একটি মামলা দায়ের করেছেন যার নং ২৭/২৩ অন্য। যা বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পরিদর্শণ ও নিরীক্ষা অধিদপ্তর দিনাজপুর জেলা শাবার পরিচালক প্রফেসর এম এম সহিদুল ইসলাম স্বাক্ষরিত স্মারক নং ৩৭.১৯.০০০০.০০০.০৩৬.১৬০০৫৬,২২.১৫ তারিখ ৩১/১২/২৫ এর মাধ্যমে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ সচিবের দপ্তরে গত ২৩/১২/২০১৯ তারিখে অধিদপ্তরের প্রাক্তন উপ-পরিচালক টুটুল কুমার নাগের লোকা উচ্চ বিদ্যালয়ের পরিদর্শণ ও নিরীক্ষা প্রতিবেদন দিয়েছেন। প্রতিবেদনে দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয়ের বৈধতা নিয়ে হাইকোর্ট বিভাগে রিট পিটিশন নং ১০২৪২/২০০৬/৮৯/২০০০, ৬৭৯৯/১১৮১৪৪/২০১১, ৭/২০১১, ৯৫২১/ ২০১২, ১০০০৫/ ১৩, ১০৩৯৮/ ২০১৩ এর ১৩/৪/২০১৬ তারিখের আদেশে এবং আপিল বিভাগের আদেশে দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয়ের সব কার্যক্রম বন্ধ ঘোষনা সহ আইনের দৃষ্টিতে সেটি কোন বিশ্ববিদ্যালয়ই নয় বলে উল্লেখ করা হয়েছে। আরো উল্লেখ করা হয়েছে শিক্ষা মন্ত্রনালয়ের ১৫/৭/২০২৪ তারিখের নং ৩৭, ০০, ০০০০, ০৭৪. ০২৯, ০০৩, ২০২২, ১৮৭ সংখ্যক স্মারকে জারীকৃত বেসরকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের (স্কুল ও কলেজ) জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা ২০২১ এর ২০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী শিক্ষক কর্মচারীর বেতন-ভাতার সরকারী অংশ স্থগিত বাতিল ও ছাড় করনের লক্ষ্যে গঠিত আপিল কমিটির ১৭.০৪.২০২৪ তারিখে অনুষ্ঠিত সভার সুপারিশে বে-সরকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের (স্কুল ও কলেজ) জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা ১৯৯৫/২০১০ (সংশোধিত ২০১৩)/২০১৮/২০২১ অনুযায়ী কোন ব্যক্তি এমপিও ভুক্তি ও উচ্চতর আর্থিক সুবিধা প্রাপ্তির ক্ষেত্রে দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয়ের সনদ বিবেচনা করা যাবে না বলে উল্লেখ করা হয়। এমতাবস্থায় লোকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবু তাহেরের দারুল ইহসানের বিএড সনদটি কিভাবে গৃহিত হলো সেটা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে প্রধান শিক্ষক আবু তাহেরের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি সঠিক জবাব না দিয়ে এডিয়ে যান। এ বিষয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার দিপক কুমার বনিকের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয়ের বৈধতা বিষয়ে ৫ আগষ্টের পরে একটি চিঠি হয়েছে বলে তিনি শুনেছেন। তবে সেই চিঠি তিনি পান নাই। লোকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিষয়ে কোন অভিযোগ পাওয়া যায়নি। বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা পূর্বের চেয়ে কমেছে বলে জানান।
প্রকাশক ও সম্পাদক, মোঃ জিল্লুর রহমান,০১৮৫৯-৬৬৭৬০২,০১৭০৭-৫০১৪১৪নি,র্বাহী সম্পাদক, মোঃ আঃ রাজ্জাক সরকার, বার্তা সম্পাদক, মোঃ রতন মন্ডল
প্রধান কার্যালয়ঃ মিরপুর ১২ ঢাকা ১২১৬,mail: jillumia87@gmail.com
Copyright © 2026 দুর্নীতির তালাশ টিম. All rights reserved.