সরকারি খাস জমি ব্যক্তির নামে নামজারির অভিযোগ: সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের স্বাক্ষর নিয়ে প্রশ্ন, জেলা প্রশাসকের তদন্ত দাবি।
নিজস্ব প্রতিবেদক | জামালপুর: ০৯, জুলাই ২০২৬, ইং
অনুসন্ধানী রিপোর্টার সাংবাদিক।
জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলার ২ নম্বর পোগলদিঘা ইউনিয়নে সরকারি ১ নম্বর খাস খতিয়ানভুক্ত জমি ব্যক্তির নামে নামজারি করে দেওয়ার অভিযোগে উপজেলা ভূমি কর্মকর্তার স্বাক্ষর ও ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এ ঘটনায় জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত আবেদন (নং-৩০/২৬) জমা দিয়ে সরকারি সম্পত্তি পুনরুদ্ধার, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও ব্যক্তিদের ভূমিকা তদন্ত এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন এক আবেদনকারী।
আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, পোগলদিঘা মৌজার কোরানিপাড়া গ্রামের বি.আর.এস. দাগ নম্বর ৭১৪৩-এর মোট ১১ শতাংশ জমি সরকারি ১ নম্বর খাস খতিয়ানভুক্ত। অভিযোগ অনুযায়ী, ওই সরকারি জমি বিভিন্ন হেবা দলিল, বিক্রয় দলিল এবং নামজারির (নামজারি খতিয়ান নং-৫৯৬৬, আবেদন নং-৩৮৪৬৬৪৯) মাধ্যমে মো. আবদুল্লাহ নামে এক ব্যক্তির নামে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
লিখিত অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, একই দাগে মো. লোকমান আলির নামে বি.আর.এস. ২৬৭৬ নম্বর রেকর্ডে ২০ শতাংশ জমি রয়েছে। সেখান থেকে তিনি বৈধভাবে ৫ দশমিক ৫ শতাংশ জমি বেলাল হোসেনের কাছে বিক্রি করেন। কিন্তু অভিযোগ অনুযায়ী, পরবর্তীতে মো. আবদুল্লাহ প্রতারণার মাধ্যমে একই দাগ থেকে নিজের নামে ২৮ শতাংশ জমির দলিল সম্পাদন এবং নামজারি করিয়ে নেন। অভিযোগকারীর দাবি, এতে সরকারি খাস জমিও ব্যক্তিগত মালিকানায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে, যা সরকারি স্বার্থের পরিপন্থী।
আবেদনকারী আরও দাবি করেন, পূর্বে মরহুম বেলাল হোসেনের নামে বিক্রয়কৃত জমিও পরবর্তীতে হেবা দলিলের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যা আইনগতভাবে প্রশ্নবিদ্ধ। একই সঙ্গে প্রকৃত মালিকানার চেয়ে অতিরিক্ত জমি দেখিয়ে সরকারি খাস জমি ব্যক্তিগত নামে অন্তর্ভুক্ত করার অভিযোগও উত্থাপন করা হয়েছে।
অভিযোগে বলা হয়েছে, মরহুম বেলাল হোসেন জীবদ্দশায় ওই জমিতে একটি মসজিদ নির্মাণের ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন। তাঁর ছেলে ও মেয়ে প্রবাসে থাকার সুযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তি পূর্বে বিক্রিত জমির সঙ্গে সরকারি খাস জমিও দলিল ও পরবর্তীতে নামজারির মাধ্যমে নিজের নামে অন্তর্ভুক্ত করেছেন বলে আবেদনকারী অভিযোগ করেন।
লিখিত আবেদনে উপজেলা ভূমি কর্মকর্তার স্বাক্ষরে নামজারি অনুমোদনের বিষয়টি উল্লেখ করে অভিযোগকারী দাবি করেন, সংশ্লিষ্ট ভূমি কর্মকর্তাদের সহযোগিতা ছাড়া সরকারি খাস জমি ব্যক্তিগত নামে নামজারি হওয়া সম্ভব নয়। তিনি এ ঘটনায় দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্টদের ভূমিকা তদন্তের পাশাপাশি সম্ভাব্য অনিয়ম, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং আর্থিক লেনদেনের বিষয়টিও খতিয়ে দেখার আহ্বান জানিয়েছেন।
জেলা প্রশাসকের কাছে দেওয়া আবেদনে চারটি বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে। সেগুলো হলো ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও ব্যক্তিদের দায়-দায়িত্ব নিরূপণ, বেআইনি নামজারি ও মিউটেশন বাতিল বা সংশোধন এবং সরকারি খাস জমি পুনরুদ্ধার করে সরকারি রেকর্ডে অন্তর্ভুক্ত করা।
এ বিষয়ে উপজেলা ভূমি কর্মকর্তা ও অভিযোগে উল্লেখিত মো. আবদুল্লাহর বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা সংবাদে সংযোজন করা হবে।
জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে অভিযোগটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
উল্লেখ্য, প্রতিবেদনে বর্ণিত সব অভিযোগ আবেদনকারীর লিখিত আবেদনের ভিত্তিতে উপস্থাপিত হয়েছে। অভিযোগের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তাধীন। তদন্ত শেষে প্রকৃত তথ্য, দায়-দায়িত্ব এবং আইনগত অবস্থান সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানা যাবে।
প্রকাশক ও সম্পাদক, মোঃ জিল্লুর রহমান,০১৮৫৯-৬৬৭৬০২,০১৭০৭-৫০১৪১৪নি,র্বাহী সম্পাদক, মোঃ আঃ রাজ্জাক সরকার, বার্তা সম্পাদক, মোঃ রতন মন্ডল
প্রধান কার্যালয়ঃ মিরপুর ১২ ঢাকা ১২১৬,mail: jillumia87@gmail.com
Copyright © 2026 দুর্নীতির তালাশ টিম. All rights reserved.