নারায়ণগঞ্জ জেলার আইন শৃঙ্খলা রক্ষার আড়ালে খোদ পুলিশের বিরুদ্ধেই মাদক অভিযানের নামে সাধারণ মানুষের সর্বস্ব লুটে নেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।
মোঃ রাজিবুল ইসলাম রাজিব (ঢাকা ব্যুরো)
নারায়ণগঞ্জ জেলার ফতুল্লা মডেল থানার উপ-পরিদর্শক ( এসআই ) খায়রুল বাশার কর্তৃক মাদক উদ্ধারের নামে সোনার চেইন চুরির ঘটনা এবং পরবর্তীতে তার গ্রেপ্তারের পর নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা ও ভাবমূর্তি বড় ধরনের সংকটের মুখে পড়েছে।
অভিযান চালাতে গিয়ে একজন দায়িত্ব প্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তার এমন চুরির মামলায় জড়িয়ে পড়ার ঘটনা নৈতিক স্খলনকে যেমন সামনে এনেছে, তেমনি ফতুল্লা মডেল থানার অন্যান্য অফিসারদের মাঝেও এটি এক ধরনের মনস্তাত্ত্বিক চাপ ও চাপা ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে।
চুরির দায়ে গ্রেপ্তার হওয়া এস আই খায়রুল বাশার বর্তমানে নারায়ণগঞ্জ জেলা কারাগারে বন্দী আছেন।
সূত্রে জানা গেছে , নারায়ণগঞ্জ জেলার ফতুল্লা এলাকায় মাদক উদ্ধারের এক তথাকথিত গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে অভিযানে যান এসআই খায়রুল বাশার।
কিন্তু মাদক উদ্ধারের নামে সেখানে তল্লাশির আড়ালে স্বর্ণের চেইন চুরির মতো ন্যক্কার জনক ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী পরিবার দমে না গিয়ে আইনের আশ্রয় নিলে বিষয়টি জেলা পুলিশের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের নজরে আসে।
পরবর্তীতে প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার পর এসআই খায়রুলের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয় এবং তাকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হলে বিজ্ঞ বিচারক জামিন না মঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
একজন সহকর্মীর এমন অপকর্মের পর এবং তিনি গ্রেপ্তার হওয়ার পর ফতুল্লা মডেল থানার ভেতরে পুলিশ কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র চাপা ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে।
তবে এই ক্ষোভ অপরাধের বিরুদ্ধে নয়, বরং সহকর্মীর এমন প্রকাশ্য গ্রেপ্তারে নিজেদের 'সুরক্ষা ভেঙে যাওয়ার কারণে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় কয়েক জন জানান,
এই ঘটনার পর থেকে থানার অফিসাররা এক ধরণের অদ্ভুত আতঙ্কে ভুগছেন।
মাদক, অস্ত্র কিংবা পরোয়ানা ভুক্ত আসামি ধরার ক্ষেত্রে তারা এখন এক ধরণের অনীহা বা ঢিলেমি দেখাচ্ছেন।
অনেকের মতে, পুলিশ মূলত নিজেদের অনৈতিক কর্মকাণ্ড ফাঁস হয়ে যাওয়ার ভয়ে এখন ব্যাকফুটে চলে গেছে।
অভিযান চালাতে গিয়ে ফেঁসে যাওয়ার ভয়, মূলত অপরাধ লুকাতে না পারারই এক ধরণের আতঙ্ক বলে মনে করছেন অপরাধ বিশেষজ্ঞরা।
শিল্পাঞ্চল নারায়ণগঞ্জ জেলা ফতুল্লায় পুলিশের এমন অপকর্ম এবং তার জেরে মাঠ পর্যায়ের পুলিশি কার্যক্রমে স্থবিরতার কারণে এলাকার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি মারাত্মক ভাবে ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে।
সাধারণ মানুষের অভিযোগ, পুলিশ যখন নিজেই চুরির মামলায় জড়িয়ে পড়ে , তখন অপরাধীদের মনে পুলিশের আর কোনো ভয় থাকে না।
পুলিশের এই নৈতিক পরাজয় এবং গা-বাঁচিয়ে চলার নীতির সুযোগ নিয়ে এলাকায় মাদক ব্যবসায়ী, কিশোর গ্যাং এবং ছিনতাইকারীরা নতুন করে বেপরোয়া হয়ে উঠছে।
পুলিশের এই চুরির ঘটনা ও পরবর্তী থমথমে পরিস্থিতিতে সাধারণ ফতুল্লাবাসী চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
এলাকাবাসীর দাবি, অপরাধী পুলিশ হোক বা সাধারণ নাগরিক, আইন সবার জন্য সমান হতে হবে।
পুলিশের অপরাধের কারণে যেন সাধারণ মানুষ নিরাপত্তাহীনতায় না ভোগে, সেজন্য নারায়ণগঞ্জ জেলার পুলিশের হাই কমান্ডকে দ্রুত ও কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।
একই সাথে ফতুল্লা মডেল থানার সামগ্রিক কার্যক্রমের ওপর নজরদারি বাড়িয়ে জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখাই এখন নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের শীর্ষ কর্মকর্তাদের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
প্রকাশক ও সম্পাদক, মোঃ জিল্লুর রহমান,০১৮৫৯-৬৬৭৬০২,০১৭০৭-৫০১৪১৪নি,র্বাহী সম্পাদক, মোঃ আঃ রাজ্জাক সরকার, বার্তা সম্পাদক, মোঃ রতন মন্ডল
প্রধান কার্যালয়ঃ মিরপুর ১২ ঢাকা ১২১৬,mail: jillumia87@gmail.com
Copyright © 2026 দুর্নীতির তালাশ টিম. All rights reserved.