মানিকগঞ্জে বিএডিসির আওতায় খাল খনন প্রকল্পে শুধুমাত্র কাগজ কলমে উন্নয়ন দেখিয়ে অর্থ আত্নসাতের অভিযোগ ঠিকাদারের বিরুদ্ধে
জাহাঙ্গীর আলম, জেলা প্রতিনিধিঃ
মানিকগঞ্জ জেলা ঘিওর উপজেলার নালী ইউনিয়নের গাংডুবি থেকে বানিয়াজুরী ইউনিয়ন পর্যন্ত প্রায় ৫ কিলোমিটার খাল খনন প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। বিএডিসির আওতায় ৭৯ লাখ ৪৯ হাজার ৫০৫ টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়নাধীন এ প্রকল্পের অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে সরেজমিনে যান গণমাধ্যমকর্মীরা এবং স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করেন।
জানা যায়, বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএডিসি)-এর আওতায় "বাংলাদেশের জন্য সেচের পানি ব্যবস্থাপনা এবং ওয়েবভিত্তিক কৃষি তথ্য ব্যবস্থা (WMAIS) বিষয়ক পাইলট গবেষণা প্রকল্প"-এর অংশ হিসেবে খাল খননের এ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। প্রকল্পটি বাংলাদেশ সরকারের কৃষি মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে বাস্তবায়িত হচ্ছে। বাংলাদেশ ও জার্মানির একাধিক বিশ্ববিদ্যালয় এবং গবেষণা প্রতিষ্ঠানের প্রযুক্তিগত ও গবেষণা সহযোগিতায় পরিচালিত এই প্রকল্পের লক্ষ্য সেচব্যবস্থার উন্নয়ন, পানির সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা এবং কৃষকদের জন্য আধুনিক তথ্যসেবা নিশ্চিত করা।
অভিযোগ অনুযায়ী, প্রকল্পে পাঁচ কিলোমিটার খাল খননের পাশাপাশি বটম প্রস্থ ১০ ফুট এবং নির্ধারিত গভীরতা বজায় রাখার কথা থাকলেও বাস্তবে অধিকাংশ স্থানে সেই নকশা অনুসরণ করা হয়নি। কোথাও ৮ ফুট গভীরতার পরিবর্তে মাত্র ৫ থেকে ৬ ফুট পর্যন্ত খনন করা হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, যেসব স্থানে খননকাজ দেখানো হচ্ছে, তার অনেক অংশে আগে থেকেই খাল, পুকুর কিংবা জলাধার বিদ্যমান ছিল। অভিযোগ রয়েছে, নতুন করে খনন না করে অনেক স্থানে শুধুমাত্র দুই পাশের জঙ্গল, আগাছা ও ময়লা পরিষ্কার করেই খাল খননের কাজ সম্পন্ন দেখানোর চেষ্টা করা হয়েছে। এছাড়া খালের বিভিন্ন অংশ এখনো মাটি দিয়ে ভরাট থাকায় স্বাভাবিক পানি প্রবাহের কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেই। ফলে প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন নিয়েই প্রশ্ন তুলছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের পরিবর্তে কাগজে-কলমে কাজ দেখিয়ে সরকারি অর্থ আত্মসাতের চেষ্টা চলছে। তাদের দাবি, প্রকল্পটি সঠিকভাবে বাস্তবায়িত না হলে কৃষকদের সেচ সুবিধা নিশ্চিত হবে না এবং জনগণের অর্থেরও অপচয় হবে। এ সময় স্থানীয় বাসিন্দারা প্রকল্পের বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ তুলে ধরে দ্রুত তদন্তের দাবি জানান।
এদিকে তথ্য সংগ্রহের সময় ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের কয়েকজন কর্মচারীর বিরুদ্ধে এলাকার জমির মালিকদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাস্থলে উপস্থিত ব্যক্তিদের সামনেই এ ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে আরও জানা যায়, বিএডিসির তত্ত্বাবধানে মো. পরাগ নামের একজন ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রকল্পের খাল খননের কাজ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। তবে প্রকল্পের শুরু থেকেই কাজের মান ও বাস্তবায়ন নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে জনমনে।
এ বিষয়ে প্রকল্প বাস্তবায়নকারী ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। পরে তার প্রতিনিধি আব্দুল্লাহর সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি অভিযোগের বিষয়ে সন্তোষজনক কোনো ব্যাখ্যা বা তথ্য দিতে পারেননি।
বিশ্লেষকদের মতে, জনগণের করের অর্থে বাস্তবায়িত ৭৯ লাখ ৪৯ হাজার ৫০৫ টাকা ব্যয়ের উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা জরুরি। অভিযোগ প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং প্রকল্পের কাজ পুনর্মূল্যায়নের দাবি জানিয়েছেন তারা। তাদের মতে, কাগজে-কলমে উন্নয়নের পরিবর্তে বাস্তবমুখী ও টেকসই উন্নয়নই জনগণের প্রত্যাশা।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে মানিকগঞ্জ বিএডিসির দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রকৌশলী মো. তিতাস বলেন, “আমরা সরেজমিনে পরিদর্শন করব। কোথাও অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
প্রকাশক ও সম্পাদক, মোঃ জিল্লুর রহমান,০১৮৫৯-৬৬৭৬০২,০১৭০৭-৫০১৪১৪নি,র্বাহী সম্পাদক, মোঃ আঃ রাজ্জাক সরকার, বার্তা সম্পাদক, মোঃ রতন মন্ডল
প্রধান কার্যালয়ঃ মিরপুর ১২ ঢাকা ১২১৬,mail: jillumia87@gmail.com
Copyright © 2026 দুর্নীতির তালাশ টিম. All rights reserved.