ব্রেকিং নিউজ.........
সিদ্ধিরগঞ্জে মারণাস্ত্রসহ অস্ত্রধারী গ্রেফতার:
নেপথ্যের কুশীলবদের মুখোশ উন্মোচনে কঠোর অবস্থানের দাবি।
মোঃ রাজিবুল ইসলাম রাজিব (সমগ্র ঢাকা )
বিশেষ সংবাদদাতা, নারায়ণগঞ্জ:
নারায়ণগঞ্জ জেলার সিদ্ধিরগঞ্জে পুলিশ প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে অস্ত্র ও গোলাবারুদ মজুদ করার এক ভয়াবহ চিত্র ফুটে উঠেছে।
গত ৩০শে জুন দিবাগত গভীর রাতে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা পুলিশের একটি দল বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে এক অস্ত্রধারীকে একটি সচল পিস্তল ও ম্যাগাজিনসহ গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছে।
এই ঘটনায় এলাকার সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরলেও, বড় ধরণের নাশকতার আশঙ্কায় জনমনে গভীর উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে এবং মামলার নথিসূত্রে জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জ জেলার সুযোগ্য পুলিশ সুপার জনাব মোহাম্মদ মিজানুর রহমান মুন্সী মহোদয়ের কঠোর নির্দেশনায় এবং সিদ্ধিরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ জনাব মোহাম্মদ এমদাদুল হকের নেতৃত্বে সরাসরি তত্ত্বাবধানে এই সাঁড়াশি অভিযান চালানো হয়।
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এসআই (নিরস্ত্র) মোঃ মনির হোসেন এবং এএসআই (নিরস্ত্র) এস এম ইলিয়াস হোসেনের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দক্ষ দল গভীর রাতে সিদ্ধিরগঞ্জ থানাধীন ১/২, এনায়েতনগর এলাকা ঘেরাও করে।
রাত আনুমানিক ০৩.৩০ ঘটিকায় অভিযান দলটি মিজি মেনশন নামে একটি বাড়ির পশ্চিমে থাকা ইটের প্রাচীর বেষ্টিত তেঁতুল গাছের শিকরের কাছে পৌঁছে।
সেখান থেকে অত্যন্ত সুকৌশলে লুকিয়ে রাখা ০১ (এক) টি সচল পিস্তল এবং ০১ (এক) টি ম্যাগাজিন উদ্ধার করা হয়।
মারণাস্ত্র ছাড়াও আসামির কাছ থেকে ০১ (এক) টি কালো রংয়ের realme অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়।
গ্রেফতারকৃতের পরিচয়:
ঘটনাস্থল থেকেই পুলিশ পিস্তল ও ম্যাগাজিনসহ মূল আসামিকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারকৃতের নাম মোঃ নাজির হোসেন (৫২), পিতা-মৃত আলাউদ্দিন।
সে মূলত মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর থানার বেজগাঁও এলাকার বাসিন্দা।
বর্তমানে সে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার এনায়েতনগর এলাকায় আব্দুল আজিজ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পিছনে জনৈকা বেবী বেগমের বাড়িতে ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করছিল।
গডফাদার ও সহযোগীদের আইনের আওতায় জোর দাবি:
এই ঘটনাকে কেবল একজন ভাড়াটিয়া অপরাধীর গ্রেফতার হিসেবে দেখছে না নারায়ণগঞ্জবাসী।
জনমনে প্রশ্ন উঠেছে, একজন ৫২ বছর বয়সী ব্যক্তি কার ছত্রছায়ায় এবং কী উদ্দেশ্যে এত বড় একটি সচল মারণাস্ত্র মজুত করেছিল?
এর পিছনে নিশ্চয়ই কোনো প্রভাবশালী গোষ্ঠী, বিশেষ করে রাজনৈতিক দলের লোকজনের হাত থাকার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে, যারা অপরাধীদের ব্যবহার করে জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করতে চায়।
নারায়ণগঞ্জের সচেতন নাগরিকরা এবং ভুক্তভোগী জনসাধারণের দাবি, জেলা পুলিশ ও প্রশাসনকে এই ঘটনার গোড়ায় পৌঁছাতে হবে।
মারণাস্ত্রের যোগানদাতা এবং এই নাজির হোসেনের আশ্রয়দাতা রাজনৈতিক কুশীলবদের মুখোশ উন্মোচন করা জরুরি।
জনসাধারণের প্রাণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশকে অবিলম্বে গ্রেফতারকৃত নাজির হোসেনের জব্দকৃত মোবাইল ফোনের কল ট্র্যাকিং এবং কল লিস্ট পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পরীক্ষা করতে হবে।
মোবাইল কল ট্র্যাকিং-এ কড়াকড়ি:
জব্দকৃত মোবাইল ফোনটি অপরাধের একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্লু।
পুলিশের আইটি বিশেষজ্ঞদের সহায়তায় এই ফোনের বিগত দিনের সব ধরণের কল, এসএমএস, এবং অ্যাপস ব্যবহার করে করা যোগাযোগ বিশ্লেষণ করা হোক।
কার কার সাথে সে নিয়মিত কথা বলত, কার নির্দেশে অস্ত্রটি সংগ্রহ করা হয়েছিল এবং অস্ত্রটি দিয়ে কী ধরণের নাশকতা ঘটানোর পরিকল্পনা ছিল, তা বের করতে হবে।
সহযোগীদের গ্রেফতারে অভিযান:
পুলিশি জেরা ও মোবাইল তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে যে বা যারা এই অপরাধে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে যুক্ত, তাদের সবাইকে অবিলম্বে গ্রেফতার করতে হবে।
কোনো রাজনৈতিক পরিচয় যেন অপরাধীদের বাঁচানোর কবজ হিসেবে কাজ না করে।
নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপে অপরাধীদের আশ্রয়দাতাদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে কেউ এমন দুঃসাহস দেখাতে না পারে।
গ্রেফতারকৃত মোঃ নাজির হোসেনের বিরুদ্ধে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় অস্ত্র আইনে একটি নিয়মিত মামলা রুজু করা হয়েছে এবং তাকে বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, মামলার স্বার্থে এবং মূল অপরাধীদের খুঁজে বের করতে তারা রিমান্ডের আবেদন করবে।
জননিরাপত্তা রক্ষায় এমন সাহসী পদক্ষেপের জন্য নারায়ণগঞ্জবাসী সিদ্ধিরগঞ্জ থানা পুলিশকে ধন্যবাদ জানাচ্ছে, একই সাথে নেপথ্যের নায়কদের খুঁজে বের করার জন্য চূড়ান্ত পদক্ষেপ দেখতে চায়।
প্রকাশক ও সম্পাদক, মোঃ জিল্লুর রহমান,০১৮৫৯-৬৬৭৬০২,০১৭০৭-৫০১৪১৪নি,র্বাহী সম্পাদক, মোঃ আঃ রাজ্জাক সরকার, বার্তা সম্পাদক, মোঃ রতন মন্ডল
প্রধান কার্যালয়ঃ মিরপুর ১২ ঢাকা ১২১৬,mail: jillumia87@gmail.com
Copyright © 2026 দুর্নীতির তালাশ টিম. All rights reserved.