ডা মিশুকে যে মামলায় গ্রেপ্তার করা হইছে এবং জামিন দেয়া হয় নাই তার ডকুমেন্ট পাইলাম। মামলা কর্ছে মো আরাফ নামে একজন। সে দাবী কর্ছে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মিছিলে শেখ হাসিনার নির্দেশে আওয়ামী লীগারেরা হামলা করে। অনেকে আহত হয় আর সেই আহতদের চিকিৎসার জন্য শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়া গেলে ডা মিশু সেই সময়ে জরুরি বিভাগে কর্তব্যরত ছিলো এবং সে চিকিৎসা দিতে অপারগতা প্রকাশ করে। এই হইতেছে তার অপরাধের ফিরিস্তি।
মিশু উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ছিলো সেইসময়ে, তার অফিস স্টেশন ক্লাবের পাশে। ও যাইয়া মেডিক্যাল কলেজে ইমার্জেন্সি মেডিক্যাল অফিসার হিসাবে কাজ করতেছিলো?!! তার অফিস থিকা কয় মাইল দূরে মেডিক্যাল কলেজ, হিসাব করেন। উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা মেডিক্যাল কলেজে যাইয়া ইমার্জেন্সি ডিউটি করে? গল্পের গরু পাহাড়ে গেছে। মিছা কথা বলার একটা সীমা আছে তো? বেইনসাফির একটা মাত্রা থাকে তো। এই এজাহারের তদন্তেই তো ভুয়া মামলা হিসাবে রিজেক্টেড হইয়া যায়। সেই মামলা পুলিশ কগনিজেন্সে নিছে আদালত নিছে। ওয়াট এ জোক। এইটা রাষ্ট্র, নাকি নটিবাড়ি?
বগুড়ার জাজ এইজন্য তারে জামিন দেয় নাই। এই হইতেছে আমাদের আদালতের অবস্থা পুলিশের অবস্থা। জুলাইয়ে রক্ত দিয়া আমরা এই বা / লের ইনসাফ কায়েম কর্ছি। মিশুকে শাস্তি দেয়া লাগবে তাই যা ইচ্ছা তাই দিয়া মামলা করা লাগবে। তাইলে এইটার সাথে আয়নাঘরের তফাৎ কী?
মিশুকে অন্যায়ভাবে গ্রেপ্তার করে রাখার জবাব জাজ, পুলিশ, স্থানীয় প্রশাসনকে দশ বছর পরে হলেও দিতে হবে। মিশুকে জেলে রাখার প্রত্যেক মুহুর্তের হিসাব কড়ায় গন্ডায় আদায় করে নিবো। মাইন্ড ইট।
আওয়ামী লীগের অনেকে আমার পোষ্টে আইস্যা বলছে আওয়ামী লীগের উপরে যতো অন্যায় হইছে তার প্রতিবাদ কেন করি নাই।
৫ ই আগষ্টের পরে যে প্রতিশোধের বন্যা বইয়া যায় নাই সেইজন্য এই বান্দার অবদান আছে। তারপরেও মিথ্যা মামলা চিহ্নিত করতে আমি সরকারকে সাহায্য করছি। পুলিশ যে প্রতিহিংসা মুলক মিথ্যা মামলার তালিকা করছে সেইটা তৈরিতে সাহায্য করছি। যে যার মতো করে মামলা বানিজ্য করতেছিলো এরে ওরে ফ্যাসিবাদের দালাল বলে ট্যাগায়ে দিতেছিলো, সেইটা সাধ্যমতো থামাইছি।
আওয়ামী লীগ আমলে মিশু হাটাচলা করতে পারতো না। ওরে ঘিরে থাকতো বিশ পঞ্চাশ জন। হাতে তিনটা ফোন। আমি কইতাম এতোগুলা ফোন ইউজ করিস ক্যান। ওরে ঠিকঠাক ঘুমাইতেও দিতো না লোকজন। এমন কাউরে নাই সে সাহায্য করে নাই। দলমত নির্বিশেষে। আর আজ তারা মিশুর বিপদে পাশে নাই। এই হইতেছে বাঙ্গুদের অবস্থা।
আওয়ামী লীগকে একটা প্রসেস অব রিকন্সিলিয়েশনের মধ্যে আনতে হবে এইটা আমার প্রস্তাবনা ছিলো। আমি কাজও করছি এইটা নিয়া। ইউরোপিয়ান এক্সপার্ট যারা বাল্টিক অঞ্চলে রিকিন্সিলিয়েশনে কাজ করছে তাদের সাথে আসিফ নজরুল ভাইকে যোগাযোগ করায়ে দিছিলাম। এই প্রসেস ধ্বংস কইর্যা দিছে ক্রমাগত উষ্কানি নিয়া আনিস আলমগীর, আব্দুন নুর তুষার সহ উগ্র আরও লীগারেরা। তারা ক্রমাগত উষ্কানি দিয়া আওয়ামী লীগকে স্বাভাবিকিকরণের রাস্তা ধরছে। পাবলিকে গেছে খেইপ্যা ক্রমাগত। আওয়ামী লীগ স্বাভাবিকিকরণ আর রিকন্সিলিয়েশন এক না। রিকন্সিলিয়েশনে অনুতাপ করতে হয়। নিজের অপরাধের জন্য ক্ষমা চাইতে হয়। এই প্রসেসে আওয়ামী লীগের একটা বড় অংশকে নিয়ে আসা যাইতো। সমাজে শান্তি ফিরে আসতো। সেই রাস্তাও বন্ধ হইয়া গেছে।
মিশু যদি এজাহারে বর্নিত অপরাধ সত্যি সত্যিই করতো, আমি তার শাস্তি চাইতাম। কিন্তু বন্ধু হিসাবে তার পাশে পরিবারের পাশে থাকতাম। এখন আমি জানি এই অভিযোগ মিথ্যা। আমি নৈতিকভাবেও মিশুর পাশে থাকবো এবং এই বেইনসাফির হিসাব আমি কড়ায় গন্ডায় বুঝে নেবো।
বগুড়ার অজস্র মানুষ মিশুর কাছে উপকার পাইছে। আপনাদের কি কোন দায় নাই? আপনারা বইস্যা আছেন কেন? কোন ভয়ে কার ভয়ে বইস্যা আছেন? কেন চিৎকার কইর্যা বলতে পারতেছেন না ডা মিশুর উপরে হওয়া বেইনসাফি বন্ধ করো। আপনি কি মুক্ত মানুষ? বিবেকবান মানুষ? স্বাধীন মানুষ? মর্যাদাবান মানুষ?
বেইনসাফি করে মিশুকে যতো মুহুর্ত জেলে রাখা হবে এই বেইনসাফির দায় কি আপনাদের নিতে হবেনা? এইটা তো গুনাহগারী। এইটুকু সাহস হয়না কেন একটা জলজ্ব্যান্ত অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে?
মিশুর গত জন্মদিনে ওরে কল দিছিলাম। সেই সময়ে ছবি তুলে রাখছিলো কেউ।
প্রকাশক ও সম্পাদক, মোঃ জিল্লুর রহমান,০১৮৫৯-৬৬৭৬০২,০১৭০৭-৫০১৪১৪নি,র্বাহী সম্পাদক, মোঃ আঃ রাজ্জাক সরকার, বার্তা সম্পাদক, মোঃ রতন মন্ডল
প্রধান কার্যালয়ঃ মিরপুর ১২ ঢাকা ১২১৬,mail: jillumia87@gmail.com
Copyright © 2026 দুর্নীতির তালাশ টিম. All rights reserved.