
মঠবাড়িয়ায় আইনজীবীদের আদালত বর্জন: এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটের বিরুদ্ধে স্বেচ্ছাচারিতা ও অসদাচরণের অভিযোগ
মোঃ ফয়সাল আহাম্মেদ, পিরোজপুর জেলা প্রতিনিধি (দুর্নীতির তালাশ টিম):
পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলা এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারকের বিরুদ্ধে চরম স্বেচ্ছাচারিতা, আইনজীবীদের সাথে অশোভন আচরণ এবং বিচারিক নিয়মনীতি লঙ্ঘনের অভিযোগ এনে আদালত বর্জন করেছেন স্থানীয় চৌকি আদালতের আইনজীবীবৃন্দ। বিচারকের এমন বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে ক্ষোভে ফুঁসে উঠেছেন বিচারপ্রার্থী ও আইনজীবী সমাজ, যার ফলে স্থবির হয়ে পড়েছে আদালতের স্বাভাবিক কার্যক্রম।
আইনজীবীদের মূল অভিযোগসমূহ
মঠবাড়িয়া চৌকি আদালতের প্র্যাকটিসরত আইনজীবীদের পক্ষ থেকে উত্থাপিত প্রধান অভিযোগগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:
অশোভন ও অপেশাদার আচরণ: আদালত চলাকালীন সময়ে বিজ্ঞ আইনজীবীদের সাথে প্রতিনিয়ত অত্যন্ত অশোভন ও অবমাননাকর আচরণ করা হয়, যা বিচারালয়ের মর্যাদাকে ক্ষুণ্ণ করে।
মামলা বেআইনিভাবে খারিজ: দিন ধার্যকৃত মামলা কোনো প্রকার আইনানুগ নোটিশ বা যৌক্তিক কারণ ছাড়াই হুট করে খারিজ করে দেওয়া হচ্ছে, যা চরম স্বেচ্ছাচারিতার শামিল।
আবেদন গ্রহণে অস্বীকৃতি: নিয়মতান্ত্রিকভাবে কোর্ট ফি দিয়ে সময়ের আবেদন কিংবা নারাজী দরখাস্ত জমা দিতে গেলে তা গ্রহণ না করে ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে।
জুনিয়র ও সিনিয়র আইনজীবীদের হয়রানি: শুনানিতে জুনিয়র আইনজীবীদের অংশ নিতে বাধা প্রদান করা হচ্ছে। অন্যদিকে, কোনো কারণ ছাড়াই সিনিয়র আইনজীবীদের তাদের নিজস্ব চেম্বার থেকে ডেকে এনে এজলাসে বসিয়ে রেখে হয়রানি করার অভিযোগ উঠেছে।
রাজস্ব আদায়ে বাধা: নিয়মতান্ত্রিক আবেদন ও কোর্ট ফি গ্রহণে অস্বীকৃতি জানানোর মাধ্যমে প্রকারান্তরে বাংলাদেশ সরকারের রাজস্ব আদায়ে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হচ্ছে।
বিচারপ্রার্থীদের সাথে দুর্ব্যবহার: দূর-দূরান্ত থেকে আসা সাধারণ মক্কেল ও বিচারপ্রার্থীদের সাথেও আদালতের পক্ষ থেকে প্রতিনিয়ত অত্যন্ত দুর্ব্যবহার করা হচ্ছে বলে আইনজীবীরা জানান।
আইন লঙ্ঘন ও সইমহরী প্রদানে গড়িমসি: মামলার আদেশের ক্ষেত্রে প্রচলিত আইনের কোনো তোয়াক্কা করা হচ্ছে না। এছাড়া আদেশের সইমহরী (নকল) পাওয়ার জন্য আবেদন করা হলেও তা প্রদানে দিনের পর দিন গড়িমসি ও হয়রানি করা হচ্ছে।
আদালত বর্জনের ডাক
আইনজীবীরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে এই পরিস্থিতি চলায় এবং বিচারকের আচরণে কোনো পরিবর্তন না আসায় বাধ্য হয়ে মঠবাড়িয়া চৌকি আদালতের প্র্যাকটিসরত আইনজীবীবৃন্দ সম্মিলিতভাবে উক্ত এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট আদালত বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন। দাবি আদায় এবং বিচারিক পরিবেশ স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এই বর্জন কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে বলে আইনজীবী সমিতির পক্ষ থেকে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।
এই অচলাবস্থার কারণে আদালতে আসা শত শত বিচারপ্রার্থী চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। সাধারণ মানুষ ও আইনজীবীরা এই বিষয়ে পিরোজপুর জেলা প্রশাসক (ডিসি) এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ ও তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
© All rights reserved © 2025
Leave a Reply