চিংড়ির ওজন বাড়াতে কারসাজির অভিযোগ
মোঃ আজগার আলী, জেলা প্রতিনিধি, সাতক্ষীরা:
সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলায় বাগদা চিংড়িতে অপদ্রব্য পুশ করার অভিযোগে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। অধিক মুনাফা অর্জনের আশায় চিংড়ির ওজন বৃদ্ধি এবং দেখতে আকর্ষণীয় করার জন্য ক্ষতিকর রাসায়নিক বা অন্যান্য অপদ্রব্য ব্যবহার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে এবং জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার শোভনালী ইউনিয়নের বাকড়া গ্রামের এক মাছ ব্যবসায়ী হাফিজুলের বিরুদ্ধে বাগদা চিংড়িতে অপদ্রব্য পুশ করার অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার জন্ম নিয়েছে। স্থানীয়রা দাবি করছেন, দীর্ঘদিন ধরে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী চিংড়ির প্রকৃত ওজনের চেয়ে বেশি ওজন দেখানোর উদ্দেশ্যে বিভিন্ন ধরনের পদার্থ ব্যবহার করে আসছেন।
মৎস্য খাত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের বাগদা চিংড়ির ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। কিন্তু কিছু অসাধু ব্যবসায়ীর অনৈতিক কর্মকাণ্ডের কারণে দেশের গুরুত্বপূর্ণ এই রপ্তানি খাতের সুনাম ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি বাজারে এসব চিংড়ি বিক্রি হলে সাধারণ ভোক্তারা স্বাস্থ্যঝুঁকির মুখে পড়তে পারেন।
এলাকার সচেতন নাগরিকরা বলেন, খাদ্যে ভেজাল বা ক্ষতিকর পদার্থ মেশানোর ঘটনা শুধু আইনগত অপরাধই নয়, এটি জনস্বাস্থ্যের জন্যও মারাত্মক হুমকি। তারা অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত, দায়ীদের শনাক্তকরণ এবং কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
স্থানীয় ভোক্তারা অভিযোগ করেন, বাজারে গিয়ে সাধারণ মানুষ বুঝতে পারেন না কোন চিংড়ি নিরাপদ এবং কোনটি অপদ্রব্য মিশ্রিত। ফলে তারা প্রতারণার শিকার হওয়ার পাশাপাশি স্বাস্থ্যগত ঝুঁকির মধ্যেও থাকছেন। এ কারণে নিয়মিত বাজার মনিটরিং এবং মাছের মান যাচাইয়ের ব্যবস্থা জোরদারের দাবি জানিয়েছেন তারা।
এ বিষয়ে প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তাদের দ্রুত তদন্ত করে সত্যতা যাচাই এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন এলাকাবাসী। পাশাপাশি নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, মৎস্য বিভাগ এবং স্থানীয় প্রশাসনের সমন্বিত অভিযান পরিচালনার দাবি উঠেছে।
স্থানীয়দের ভাষায়, আমরা কি বাগদা চিংড়ি খাচ্ছি, নাকি বিষ খাচ্ছি? এমন প্রশ্ন এখন সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ ও আতঙ্কের জন্ম দিয়েছে। অভিযোগের দ্রুত তদন্ত ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে জনমনে আস্থা ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন তারা।
প্রকাশক ও সম্পাদক, মোঃ জিল্লুর রহমান,০১৮৫৯-৬৬৭৬০২,০১৭০৭-৫০১৪১৪নি,র্বাহী সম্পাদক, মোঃ আঃ রাজ্জাক সরকার, বার্তা সম্পাদক, মোঃ রতন মন্ডল
প্রধান কার্যালয়ঃ মিরপুর ১২ ঢাকা ১২১৬,mail: jillumia87@gmail.com
Copyright © 2026 দুর্নীতির তালাশ টিম. All rights reserved.