দৌলতপুরের চাঞ্চল্যকর জোড়া হত্যাকাণ্ডের প্রধান আসামি ইউসুফ ও সহযোগী পরিকল্পনাকারী সুমন গ্রে*ফ*তা*র
জাহাঙ্গীর আলম, জেলা প্রতিনিধিঃ
মানিকগঞ্জের দৌলতপুর উপজেলার বাচামারা কাচারীপাড়া এলাকায় সংঘটিত চাঞ্চল্যকর জোড়া হত্যাকাণ্ড ও হত্যাচেষ্টা মামলার প্রধান আসামি মোঃ ইউসুফ মোল্লা (৪২) এবং হত্যার সহযোগী পরিকল্পনাকারী মোঃ সুমন হোসেন (২৩)-কে গ্রেফতার করেছে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি), মানিকগঞ্জ।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ৩০ মে ২০২৬ তারিখ রাত আনুমানিক ৮টা ১৫ মিনিট থেকে ৮টা ৩০ মিনিটের মধ্যে পারিবারিক বিরোধের জেরে ইউসুফ মোল্লা তার আপন ভাবী আমেনা খাতুন (৩২) ও ১৫ মাস বয়সী ভাতিজা আসলাম হোসেন আসাদকে হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করে নির্মমভাবে হত্যা করে। এ সময় তার আপন ভাই আব্দুস সালাম মোল্লা (৪৮)-কে হত্যার উদ্দেশ্যে মাথায় আঘাত করে গুরুতর জখম করা হয়।
এ ঘটনায় দৌলতপুর থানায় মামলা নং-১৩, তারিখ ৩১ মে ২০২৬, পেনাল কোড ১৮৬০-এর ৩০২/৩০৭/৩২৫ ধারায় একটি মামলা রুজু করা হয়।
মামলাটি ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করলে মানিকগঞ্জ জেলার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সারওয়ার আলম (বিপিএম-সেবা)-এর নির্দেশনায় জেলা গোয়েন্দা শাখার ইনচার্জ পুলিশ পরিদর্শক (নিঃ) মানবেন্দ্র বালোর তত্ত্বাবধানে একটি বিশেষ টিম আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান শুরু করে।
তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত ২ জুন ২০২৬ রাত সাড়ে ১১টার দিকে ঢাকা মহানগরের শাহ আলী থানা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে প্রধান আসামি ইউসুফ মোল্লা এবং সহযোগী পরিকল্পনাকারী সুমন হোসেনকে গ্রেফতার করা হয়।
পুলিশ জানায়, হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনায় মোট তিনজন জড়িত ছিল। তারা হলেন ইউসুফ মোল্লা, তার ভাগিনা সুমন হোসেন এবং আরেক ভাগিনা সবুজ। ঈদের চার থেকে পাঁচ দিন আগে সাভারে তাদের বোনের বাসায় হত্যার পরিকল্পনা করা হয়। হত্যাকাণ্ডে সরাসরি অংশ নেয় ইউসুফ ও সবুজ। ইউসুফ ঘটনার তিন থেকে চার দিন আগে এলাকায় আসে এবং সবুজ ঘটনার দিন বিকেলে সেখানে পৌঁছে।
তদন্তে জানা গেছে, হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত দুটি হাতুড়ির মধ্যে একটি ইউসুফের কাছে আগে থেকেই ছিল এবং অপরটি সবুজ চরকাটারী বোর্ডঘর বাজার থেকে কিনে আনে। ঘটনার পর পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত দুটি হাতুড়ি উদ্ধার করে।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃত ইউসুফ পারিবারিক বিরোধের কারণে হত্যাকাণ্ড সংঘটনের কথা স্বীকার করেছে। এছাড়া সুমনের বিরুদ্ধে হত্যার পরিকল্পনায় জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া গেছে।
গ্রেফতারকৃত আসামিদের বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। মামলার অপর আসামি সবুজকে গ্রেফতারের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এ বিষয়ে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সারওয়ার আলম বলেন, “চাঞ্চল্যকর এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং বাকি আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে।
প্রকাশক ও সম্পাদক, মোঃ জিল্লুর রহমান,০১৮৫৯-৬৬৭৬০২,০১৭০৭-৫০১৪১৪নি,র্বাহী সম্পাদক, মোঃ আঃ রাজ্জাক সরকার, বার্তা সম্পাদক, মোঃ রতন মন্ডল
প্রধান কার্যালয়ঃ মিরপুর ১২ ঢাকা ১২১৬,mail: jillumia87@gmail.com
Copyright © 2026 দুর্নীতির তালাশ টিম. All rights reserved.