
শেরপুরে ঐতিহ্যবাহী কেল্লা-পোষী
“জামাইবরণ মেলা” আজ রবিবার থেকে শুরু
মো:এরশাদ হোসেন, বগুড়া জেলা ক্রাইম রিপোর্টার:
বগুড়ার শেরপুর উপজেলার বিশালপুর ইউনিয়নের রানীরহাটে অনুষ্ঠিত মেলা শেষ হওয়ার পর এবার শুরু হতে যাচ্ছে প্রায় সাড়ে ৪শ বছরের ঐতিহ্যবাহী “কেল্লাপোষী মেলা” বা “জামাইবরণ মেলা”। স্থানীয়দের কাছে এটি অন্যতম প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী গ্রামীণ মেলা হিসেবে পরিচিত।
জানা গেছে,বগুড়ার শেরপুর উপজেলার কুসুম্বি ইউনিয়নের কেল্লা-পোষী এলাকায় প্রায় ৪৫০ বছরের বেশি সময় ধরে এই মেলার আয়োজন হয়ে আসছে। জনশ্রæতি রয়েছে, ১৫৫৬ খ্রিষ্টাব্দে ফকির গাজী ও কালু মিয়ার আধ্যাত্মিক কাহিনিকে কেন্দ্র করেই এ মেলার সূচনা।
প্রতি বছর বাংলা জ্যৈষ্ঠ মাসের দ্বিতীয় রবিবার থেকে শুরু হয় ঐতিহাসিক কেল্লা-পোষী মেলা। এ বছর পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে মেলাটি ঈদের চার দিন আগে শুরু হলেও শেষ হবে ঈদের পরে বলে জানিয়েছেন মেলা কর্তৃপক্ষ। এই মেলার অন্যতম প্রধান আকর্ষণ হলো “জামাইবরণ”। মেলাকে কেন্দ্র করে শ্বশুরবাড়ি থেকে জামাইদের বিশেষ দাওয়াত দেওয়া হয়। জামাইরা মেলা থেকে বড় বড় মাছ,মাটির পাত্রে দই, মিষ্টিসহ বিভিন্ন সামগ্রী কিনে শ্বশুরবাড়িতে বেড়াতে যান। এ কারণে স্থানীয়ভাবে এটি “জামাই মেলা” নামেও ব্যাপক পরিচিত।
একসময় এই মেলায় কাঠের আসবাবপত্র, মাটির তৈজসপত্র, বাঁশ-বেতের সামগ্রী ও বিভিন্ন ধরনের ঐতিহ্যবাহী মিষ্টির বিশাল সমাহার থাকত। সময়ের পরিবর্তনে মেলার জৌলুস কিছুটা কমে গেলেও এখনও গ্রামীণ ঐতিহ্যের আমেজ ধরে রেখেছে এই আয়োজন। ইতোমধ্যে রানীরহাট মেলা শেষে নাগরদোলা, চড়কিখেলা, সার্কাস, যাদু খেলা ও যাত্রা-বিচিত্রাসহ বিভিন্ন বিনোদনের আয়োজন কেল্লাপোষী মেলায় স্থানান্তর করা হয়েছে। ফলে ঈদের ছুটিতে এবারের মেলায় দর্শনার্থীদের উপস্থিতি বেশি হবে বলে আশা করছেন স্থানীয়রা। মেলা উপলক্ষে স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিরাপত্তার বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। স্থানীয় বাসিন্দা মিজানুর রহমান মিজান বলেন, “আগের মতো সেই আনন্দ এখন আর পুরোপুরি না থাকলেও কেল্লাপোষী মেলা এখনও মানুষের বিনোদনের বড় আয়োজন। সবাইকে মেলায় এসে ঐতিহ্যের আনন্দ উপভোগ করার আমন্ত্রণ জানাই।” প্রতি বছরের মতো এবারও উৎসবমুখর পরিবেশে ঐতিহাসিক এই মেলা অনুষ্ঠিত হবে বলে আশা করছেন এলাকাবাসী মনে করেন।
© All rights reserved © 2025
Leave a Reply