মেগা প্রকল্পের মেগা দু*র্নী*তি-
কক্সবাজার-দোহাজারী রেলপথে কমপক্ষে ১৫'শ কোটি টাকা লু*ট*পা*ট!
কক্সবাজার পর্যন্ত স্বপ্নের রেললাইন নির্মাণে মেগা প্রকল্পের আড়ালে রয়েছে ভয়াবহ মেগা দুর্নীতির অভিযোগ। এই মেগা প্রকল্পে হাজার হাজার কোটি টাকা লুটপাটের অভিযোগ রয়েছে।
প্রকাশ, দোহাজারী–কক্সবাজার রেল প্রকল্পটি দেশের অন্যতম বড় অবকাঠামো উদ্যোগ/প্রকল্প। কিন্তু এই প্রকল্পে ইতোমধ্যে কমপক্ষে ১৫০০ কোটি টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেটের মাধ্যমে বলে অভিযোগ রয়েছে।
সুত্র জানায়, এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে ছিলেন বাংলাদেশ রেলওয়ের সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালক ও প্রকল্পের ডেপুটি প্রজেক্ট ম্যানেজার
(ডিপিএম), কনসালটেন্সি ফার্মের ডেপুটি টিম লিডার (ডিটিএল) ও
কনস্ট্রাকশন সুপারভিশন কনসালটেন্ট (সিএসসি)
এ এন এম খসরু। ইতোমধ্যে তার বিরুদ্ধে দুদকে একাধিক অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
নির্ভরশীল সুত্র জানায়, এই
প্রকল্পের ডেপুটি প্রজেক্ট ম্যানেজার (ডিপিএম), কনসালটেন্সি ফার্মের ডেপুটি টিম লিডার (ডিটিএল) ও
কনস্ট্রাকশন সুপারভিশন কনসালটেন্ট (সিএসসি)
এ এন এম খসরুর দায়িত্ব ছিল
কাজের মান যাচাই, পরিমাপ নির্ধারণ, বিল অনুমোদনসহ সার্বিক তদারকি। অভিযোগ রয়েছে তার অনুমোদন ছাড়া কোনো বিল পাস হবে না। আর তার এই ক্ষমতাকে ব্যবহার করা হয়েছে দুর্নীতির মূল হাতিয়ার হিসেবে। নকশার বাইরে কাজ দেখানো, নকশা পরিবর্তন করে অতিরিক্ত বিল, কাজ না করেই ভুয়া আরএফআই সিগনেচার,
নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহার, অতিরিক্ত মেজারমেন্ট দেখানো, বাস্তবের চেয়ে বেশি বিল উত্তোলন।
সুত্র আরো জানায়, এমনকি অফিস, বাসা ও গ্যারেজ ভাড়াও বাড়িয়ে দেখিয়ে ঠিকাদারের সাথে ভাগাভাগি করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। দুই বছর পর কোন কোন বাসা ভাড়া বাড়ানো হলেও কিছু বাসা ভাড়া কমানো হয়েছে। বাসা ছাড়ার পর ক্ষতিপূরণ থেকেও টাকা আত্মসাৎ, এমনকি গাড়ির জ্বালানিও ছিল লুটের তালিকায় বলে বিশেষ সুত্র থেকে জানা যায়।
শুধু তাই নয়, প্রকল্পে সংশ্লিষ্ট কর্মচারী ও শ্রমিকদের পাওনা থেকেও বঞ্চিত করা হয়েছে অভিযোগ রয়েছে। প্রকল্পের সাথে জড়িত সংশ্লিষ্ট একাধিক ব্যক্তি জানিয়েছেন, যারা তার অনিয়মে সায় দেননি, তাদের ওপর নেমে এসেছে নির্যাতন। এদের মধ্যে অন্যতম হচ্ছে- ইঞ্জিনিয়ার নূরুল ইসলাম। তিনি অবৈধ কাগজে সই/স্বাক্ষর না করায় চাকুরি ছাড়তে বাধ্য হন বলে জানা গেছে। এছাড়াও পরে সেই কাগজে সই করে খসরুকে উদ্ধার করে ইঞ্জিনিয়ার সালাউদ্দিন। যিনি খসরুর সিন্ডিকেটের কক্সবাজার সাম্রাজ্য সামলাতেন বলে নির্ভরশীল সুত্র জানায়।
এ বিষয়ে জুনিয়র ইঞ্জিনিয়ার শরীয়ত উল্লাহ উল্লেখিত অনিয়ম ধরায় বলে সালাউদ্দিন খসরুর কাছে অভিযোগ জানায়। ফলে খসরু তাকে ১৫ দিনের অবৈতনিক ছুটিতে পাঠায়। তারপর যখন কক্সবাজার স্টেশনের পাশের বিল্ডিং কমপ্লেক্স নকশা অনুযায়ী হয়নি বললে তিনি চুড়ান্ত ভাবে চাকুরি হারান। একই কায়দায় অন্যান্যদেরও অবৈধভাবে চাকরি থেকে সরিয়ে দেয়া হয়েছে।
এদিকে, নরম মাটি শক্ত করার প্রযুক্তি (ডিভিডি) তেও ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে।
একজন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি জানান, এই কাজের মধ্যে ৫% কাজেরও সঠিক মেজারমেন্ট নেই। একই সাথে কেউ সঠিক মেজারমেন্ট লিখলে পরে সেই কাগজ ছিড়ে ফেলে দিয়ে নিজের মত করে রিপোর্ট তৈরি করে সিগনেচার করা হত বলে অভিযোগ রয়েছে। এ কাজের দায়িত্বেও ছিলেন খসরুর আরেক আস্থাভাজন এনভায়রনমেন্ট ইঞ্জিনিয়ার সাইফুল ইসলাম।
অভিযোগ রয়েছে, ইঞ্জিনিয়ার হাবিবুর রহমান পাহাড় কেটে মাটি পর্যন্ত বিক্রি করেছে।
ব্রিজ কালভার্ট না করেও বিল উত্তোলন, সমতল ভূমিতে নদী, নালা, পুকুর, পাহাড় ইত্যাদি দেখিয়ে বিল উত্তোলন, পাহাড়ের পাশে দেয়াল না করেও বিল উত্তোলন সহ অসংখ্য অনিয়ম রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে।
নির্ভরশীল সুত্র জানায়, সব অনিয়মের শেষের অংশ সামাল দিতেন কোয়ান্টিটি সার্ভেয়ার(কিউএস) কানন বড়ুয়া। পুরো পরিমাপের বিষয়টি তিনিই সামলাতেন। সুতরাং, এতো বিশাল পরিমাণ অনিয়ম করা হয়েছে, যার ফলে
২০২৩ সালে ট্রেন চালুর আগেই পাহাড়ি ঢলে রেললাইন ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে যায়।
এই বিষয়ে সম্প্রতি আমাদের প্রতিনিধি অভিযুক্ত বাংলাদেশ রেলওয়ের সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালক ও প্রকল্পের ডেপুটি প্রজেক্ট ম্যানেজার (ডিপিএম), কনসালটেন্সি ফার্মের ডেপুটি টিম লিডার (ডিটিএল) ও
কনস্ট্রাকশন সুপারভিশন কনসালটেন্ট (সিএসসি)
এ এন এম খসরুর বক্তব্য জানতে চাইলে প্রথমে উনি বক্তব্য দিতে অস্বীকৃতি জানান।পরে তিনি বিভিন্ন তালবাহানা করে বারবার পিডি'র উপরে সব দায়িত্ব ও দোষ চাপানোর চেষ্টাসহ নানান ধরনের অসংগতি মুলক কথাবার্তা বলেন। এক পর্যায়ে তিনি তার পরিচালিত সিন্ডিকেটের মিডিয়া সামলানো সেই খলিলুর রহমানকে ডেকে আনেন। এই খলিল ইতোমধ্যে একাধিক মিডিয়া ম্যানেজ করেছেন বলে জানা গেছে। একই সাথে খলিলুর রহমানকে তিনি সাপ্লায়ার ও বন্ধু বলে সাংবাদিক দের সাথে পরিচয় করিয়ে দেন। কিন্তু খলিলুর রহমান উপস্থিত মিডিয়াকে বিভিন্ন ভাবে ম্যানেজ করার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়। বটে খসরুর সিন্ডিকেটটি টপ টু বটম শক্তিশালী একটি চেইন।
সুতরাং, উক্ত চেইনের খসরুসহ কানন বড়ুয়া, ২০% খ্যাত সেলিম, ভারতে সম্পদের পাহাড় গড়ে তোলা সঞ্জয়, আলী নূর, সালাউদ্দিন, সাইফুল, হাবিবুর, মিলন গোস্বামীসহ টপ টু বটম সকলের মুখোশ উন্মোচনের উদ্যোগ হিসেবে তথ্য যাচাই বাছাই প্রক্রিয়া চলছে।
প্রকাশক ও সম্পাদক, মোঃ জিল্লুর রহমান,০১৮৫৯-৬৬৭৬০২,০১৭০৭-৫০১৪১৪নি,র্বাহী সম্পাদক, মোঃ আঃ রাজ্জাক সরকার, বার্তা সম্পাদক, মোঃ রতন মন্ডল
প্রধান কার্যালয়ঃ মিরপুর ১২ ঢাকা ১২১৬,mail: jillumia87@gmail.com
Copyright © 2026 দুর্নীতির তালাশ টিম. All rights reserved.