কুড়িগ্রামে ভাতিজার বিরুদ্ধে চাচিকে ধর্ষণের অভিযোগ
জেলা প্রতিনিধী নুরআলম।
কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলা চাচিকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে ভাতিজার বিরুদ্ধে। চাঞ্চল্যকর এ ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার বামনডাঙ্গা ইউনিয়নের চর লুছনি এলাকায়। এ ঘটনায় ধর্ষক শাহজালাল ওরফে মণ্ডল (২৭)-কে আসামি করে নাগেশ্বরী থানায় একটি ধর্ষণ মামলা করেছেন ওই নারী (২৪)।
মামলার এজাহারে জানা যায়, ধর্ষিত নারীর স্বামী সংসারের খরচ যোগাতে প্রায় সময়ই ঢাকা, কুমিল্লা, নারায়ণগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকায় কৃষিশ্রমিকের কাজ করার ফলে বাড়িতে থাকতেন না। এ সুযোগে পাশের বাড়ির বাহাদুর আলীর ছেলে শাহজালাল বিভিন্ন সময়ে ওই নারীকে প্রেমের প্রস্তাবসহ নানাভাবে কুপ্রস্তাব দিত। শাহজালাল ওই নারীর স্বামীর চাচাতো ভাইয়ের ছেলে হওয়ায় তাদের মধ্যে চাচি-ভাতিজা সম্পর্ক ছিল।
এরপরও শাহজালাল বিভিন্ন সময়ে তাকে উত্ত্যক্ত করত এবং একপর্যায়ে বিয়ের প্রস্তাব দেয়। পরে চলতি মৌসুমে ধান কাটার শ্রমিকের কাজ করতে তার স্বামী নারায়ণগঞ্জ গেলে শাহজালাল ২৫ এপ্রিল রাত দেড়টার দিকে ঘরের জানালা দিয়ে প্রবেশ করে তার মুখ চেপে ধরে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। এ সময় ধর্ষিত নারীর আর্তচিৎকারে শাহজালাল জানালা দিয়ে পালিয়ে যায়। পরে এলাকাবাসী জড়ো হলে বিষয়টি নিয়ে এলাকায় নানা গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে।
স্থানীয়রা জানান, প্রায় তিন মাস আগে তাদের আচরণ ও চলাফেরা দেখে সন্দেহ হলে সতর্ক করা হয়েছিল। এরপরও শাহজালাল গভীর রাতে চাচির ঘরে প্রবেশ করে ধর্ষণ করে। তবে চাচি-ভাতিজার মাঝে পরকীয়া সম্পর্ক ছিল বলেও দাবি করেন এলাকাবাসী।
ভুক্তভোগীর পরিবার জানায়, প্রায় সময়ই শাহজালালের অশালীন আচরণ দেখে তাদের সন্দেহ হয়েছিল। কিন্তু যেহেতু তারা চাচি-ভাতিজা, তাই বিষয়টি নিয়ে নিশ্চিত হওয়া কঠিন ছিল।
ধর্ষিত নারী জানান, “সে আমাকে বহুবার বিয়ের প্রলোভন দেখিয়েছে। আবার কখনো ছবি ও ভিডিও ফেসবুকে ছেড়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেছে। লোকলজ্জার ভয়ে আমি বিষয়টি কাউকে জানাতে পারিনি। ২৫ এপ্রিল রাতে আমি ঘুমিয়ে থাকা অবস্থায় সে জানালা দিয়ে ঘরে ঢুকে আমাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। আমি চিৎকার করলে সে জানালা দিয়ে পালিয়ে যায়। আমি এর সঠিক বিচার চাই।”
এ বিষয়ে কথা বলতে শাহজালালের বাড়িতে গেলে তার বাড়ির সব ঘরে তালা লাগানো পাওয়া যায়। পরে তার মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তাকে পাওয়া যায়নি। স্থানীয়দের দাবি, সে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে পালিয়ে গেছে।
বামনডাঙ্গা ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য বাচ্চু মিয়া জানান, উভয় পক্ষই তাকে বিষয়টি জানিয়েছিল। পরে মীমাংসার কথা ছিল। এর মধ্যেই ভুক্তভোগীরা থানায় গিয়ে মামলা করেছেন।
নাগেশ্বরী থানার এসআই ইদ্রিস আলী বলেন, “অভিযোগ পেয়ে শুক্রবার (১ মে) আমরা সরেজমিনে তদন্ত করেছি। পরে ওই দিন রাতেই থানায় ধর্ষণ মামলা রেকর্ড করা হয়েছে। আসামি পলাতক থাকায় তাকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। লোকেশন ট্র্যাকিংয়ে দেখা গেছে, সে অনেক দূরে অবস্থান করছে। তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
প্রকাশক ও সম্পাদক, মোঃ জিল্লুর রহমান,০১৮৫৯-৬৬৭৬০২,০১৭০৭-৫০১৪১৪নি,র্বাহী সম্পাদক, মোঃ আঃ রাজ্জাক সরকার, বার্তা সম্পাদক, মোঃ রতন মন্ডল
প্রধান কার্যালয়ঃ মিরপুর ১২ ঢাকা ১২১৬,mail: jillumia87@gmail.com
Copyright © 2026 দুর্নীতির তালাশ টিম. All rights reserved.