কালীগঞ্জে এলজিইডি অফিসে হিসাবরক্ষকের মুস্তাফিজুর এর ঘুষ বাণিজ্য
নিজস্ব প্রতিনিধি:
সাতক্ষীরার কালীগঞ্জ উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশলী অধিদপ্তর (এলজিইডি) অফিসে কর্মরত হিসাবরক্ষক মুস্তাফিজুর রহমানের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে ঘুষ গ্রহণের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি তার ঘুষ নেওয়ার একাধিক ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে উপজেলা জুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
প্রকাশিত ভিডিওগুলোর একটি, যার দৈর্ঘ্য ১ মিনিট ১৬ সেকেন্ড, সেখানে দেখা যায়—নিজ দপ্তরের টেবিলে বসেই তিনি দুইজন ইউনিয়ন পরিষদের সচিবের কাছ থেকে প্রকল্পের বিল প্রক্রিয়াকরণের জন্য নগদ ঘুষ গ্রহণ করছেন। ভিডিওতে চাম্পাফুল ইউনিয়নের সচিব সাইদুর রহমান এবং কুশুলিয়া ইউনিয়নের সচিব কামরুজ্জামানের কাছ থেকে ১০০০ টাকার নোট গুনে মোট ১০ হাজার টাকা গ্রহণ করতে দেখা যায়। একইভাবে অন্য আরেকটি ভিডিওতে মৌতলা ইউনিয়ন পরিষদের সচিবের কাছ থেকেও ঘুষ নেওয়ার দৃশ্য ধরা পড়েছে।
ভিডিওগুলো প্রকাশ্যে আসার পর বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত হিসাবরক্ষক মুস্তাফিজুর রহমান সাংবাদিকদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন। তিনি দাবি করেন, দীর্ঘদিন চাকরি করলেও তার বিরুদ্ধে কেউ কোনো ব্যবস্থা নিতে পারেনি। এমনকি তিনি আরও বলেন, আমি একা না, ওপরের কর্মকর্তারাও জড়িত—এমন মন্তব্য করে বিষয়টি নিয়ে সংবাদ প্রকাশেরও কোনো লাভ হবে না বলে মন্তব্য করেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রকল্পের বিল তৈরি, নতুন কাজের চুক্তি, কার্যাদেশ কিংবা অন্যান্য দাপ্তরিক কাজ সম্পন্ন করতে সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে নিয়মিত ঘুষ আদায় করা হয়। একাধিক ঠিকাদার নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, প্রতিটি কাজের জন্য ৫ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত দিতে হয়। বরাদ্দের পরিমাণ বেশি হলে ঘুষের অংকও বেড়ে যায়। ঘুষ প্রদান করলে দ্রুত কাজ সম্পন্ন হয়, অন্যথায় মাসের পর মাস অফিসে ঘুরতে হয়।
এছাড়াও, ব্যক্তিগতভাবে বাড়ির নকশা (প্ল্যান) অনুমোদনের ক্ষেত্রেও তার বিরুদ্ধে অর্থ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, প্ল্যান তৈরি করতে প্রথমেই ২০ হাজার টাকা দিতে হয় এবং পরবর্তীতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও প্রকৌশলীদের নামে আরও ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয়। এ বিষয়ে সত্যতা যাচাই করতে এক সাংবাদিক গোপনে যোগাযোগ করলে একই ধরনের অর্থ দাবি করার অভিযোগও উঠে আসে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, সাতক্ষীরা সদর উপজেলার লাবসা গ্রামের আবুল কালামের ছেলে মুস্তাফিজুর রহমান ২০০৫ সালে প্রকল্পভিত্তিক নিয়োগের মাধ্যমে চাকরিতে যোগ দেন। পরবর্তীতে ২০১৩ সালে আদালতের রায়ের মাধ্যমে তার চাকরি স্থায়ী হয়। চাকরিজীবনে বিভিন্ন সময়ে দুর্নীতি, ঘুষ ও চাঁদাবাজির অভিযোগে একাধিক স্থানে তাকে বদলি করা হয়েছে। তালা উপজেলা থেকে শুরু করে খুলনার রূপসা এবং ঢাকার প্রধান কার্যালয় ঘুরে তিনি পুনরায় সাতক্ষীরায় যোগদান করেন।
২০২৫ সালের মে মাসে কালীগঞ্জ এলজিইডি অফিসে তার যোগদানকে ঘিরে ব্যাপক বিতর্কের সৃষ্টি হয়। অভিযোগ রয়েছে, মোটা অংকের তদবির ও ঘুষের মাধ্যমে তিনি এখানে পদায়ন পান। এমনকি তার যোগদান ঠেকাতে অফিসের ১৮ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী গণস্বাক্ষর করে আবেদনও করেন, যা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু সেই আবেদন উপেক্ষা করেই তিনি দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
অভিযোগ রয়েছে, চাকরির সুবাদে তিনি নিজ গ্রামে আলিশান দ্বিতল বাড়ি নির্মাণসহ বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন, যার বেশিরভাগই অর্জিত হয়েছে অবৈধ উপায়ে।
এ ঘটনায় সচেতন মহলে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা দ্রুত তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ, চাকরি থেকে অপসারণ এবং দুর্নীতির সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেছেন।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী জাকির হোসেন জানান, তার বিরুদ্ধে আগেও অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে। সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো আপনাদের মাধ্যমে জানতে পেরেছি। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
প্রকাশক ও সম্পাদক, মোঃ জিল্লুর রহমান,০১৮৫৯-৬৬৭৬০২,০১৭০৭-৫০১৪১৪নি,র্বাহী সম্পাদক, মোঃ আঃ রাজ্জাক সরকার, বার্তা সম্পাদক, মোঃ রতন মন্ডল
প্রধান কার্যালয়ঃ মিরপুর ১২ ঢাকা ১২১৬,mail: jillumia87@gmail.com
Copyright © 2026 দুর্নীতির তালাশ টিম. All rights reserved.