জেলা পরিষদ উন্নয়ন ও সংস্কারে নামে বিভিন্ন প্রকল্পের
অর্থ আত্বসাতের অভিয়োগ,একটি চক্রের বিরুদ্ধে
এস এইচ রতন,বাগেরহাট
বাগেরহাট জেলা পরিষদ, জেলা জুড়ে বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে উন্নয় ও সংস্করণের নামে বরাদ্দ দেখিয়ে অর্থ আতœসাতের মহা উৎসবে মেতে উঠেছে বলে খোজ পায়ো গেছে।এর মধ্যে কোন প্রকল্পের অংশিক কাজ করা হয়েছে, কোন প্রকল্পের কোন কাজ না করে আবার কোন প্রকল্প পরিষদের কাগজে কলমে থাকলেও বাস্তবে এর কোন অস্থিত্বই না ই। কাজ না করা এই প্রকল্পের মধ্যে খোদ জেলা পরিষদের র্নিবাহী কর্ম কর্তার অফিস কক্ষের অধুনিকায়ন এর দুটি প্রকল্প। অথচ, এসব বরাদ্দকৃত অর্থ বেশির ভাগ-ই চেকের মাধ্যমে উত্তলন হয়ে গেছে। আর এ সব ভুয়া প্রকল্প প্রস্তুত ও অর্থ আতœসাতের নেপধ্যে রয়েছে খোদ পরিষদের কর্মকর্তা ও কর্মচারি।
এই প্রকল্পকারি রা মসজিদের অস্তিত্ব-ই নাই তবু মসজিদের উন্নয়নের নামে বরাদ্দ দেখিয়ে তিনটি ভুয়া প্রকল্পের মাধ্যমে অর্থ আত্বসাৎ করতে সংকোচ করে নাই।
মসজিদের উন্নয়ন নামে,জেলা পরিষদের কাগজে-কলমে প্রকল্প থাকলেও বাস্তবে সেই মসজিদের অস্তিত্ব না থাকায় বিষয়টি নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের মতো সংবেদনশীল বিষয়কে ব্যবহার করে আর্থিক দুর্নীতি করতেও ছাড়েনি জেলা পরিষদ।
সরেজমিনে দেখা যায়, মোরেলগঞ্জ উপজেলার দৈবজ্ঞহাটি ইউনিয়নের দক্ষিণ গাজীরঘাট মাতুব্বরবাড়ি জামে মসজিদ, যা স্থানীয়দের কাছে মাদারবুনিয়া জামে মসজিদ নামে পরিচিত। এলাকার কিছু যুবক ও প্রবাসীদের সহায়তায় পুরনো জরাজীর্ণ ভবন ভেঙে নতুন মসজিদ নির্মাণ শুরু হলেও অর্থ সংকটে তা থেমে গেছে। মসজিদের পাশে অস্থায়ী ছাপড়া তুলে সেখানে অতি কষ্টে নামাজ আদায় করছেন মুসল্লিরা। স্থানীয় মুসল্লি মাহবুব মাতব্বর, আব্দুর রহমান লিটন, মাসুদ মাতব্বর জানান, ‘আমরা নিজেরাই টাকা তুলে মসজিদের কাজ করছি। সরকারি কোনো অনুদান পাইনি। দীর্ঘদিন ধরে কাজ বন্ধ থাকায় কষ্টে নামাজ পড়তে হচ্ছে।’
মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি এমডি আরিফ হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক হাফিজুর রহমান ফকিরও একই অভিযোগ করে বলেন, ‘এই মসজিদের নামে কোনো সরকারি বরাদ্দ এসেছে, এমন তথ্য আমাদের জানা নেই। যদি বরাদ্দ হয়ে থাকে, তাহলে সেই টাকা কোথায় গেল তা তদন্ত হওয়া জরুরি।’
তবে বাগেরহাট জেলা পরিষদের নথিতে ভিন্ন তথ্য পাওয়া গেছে। সেখানে মাদারবুনিয়া জামে মসজিদের উন্নয়নের জন্য ২ লাখ টাকা বরাদ্দ দেখানো হয়েছে। ২০২৫ সালের ২০ জুলাই পরিদর্শনের কথা উল্লেখ করে ইতোমধ্যে ১ লাখ টাকা উত্তোলন করা হয়েছে। নথিতে ঢালাই কাজের ভাউচার এবং কাজ সম্পন্নের ছবিও জমা দেয়া হয়েছে বলে উল্লেখ রয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের স্বাক্ষরের পর ফাইলটি বর্তমানে পরবর্তী কিস্তির অপেক্ষায় রয়েছে। এখানেই শেষ নয়, একই ইউনিয়নের দক্ষিণ মাঝিরঘাট মুন্সিবাড়ি জামে মসজিদ এবং মাধববুনিয়া জামে মসজিদের নামেও পৃথক দুটি প্রকল্প দেখিয়ে অর্থ উত্তোলনের তথ্য পাওয়া গেছে। সরেজমিনে গিয়ে ওই নামে কোনো মসজিদের অস্তিত্বই পাওয়া যায়নি।
এলাকার সাবেক ইউপি সদস্য রুহুল আমিন মাতব্বর বলেন, ‘এই দুই নামে এলাকায় কোনো মসজিদ নেই। এটি সম্পূর্ণ ভুয়া প্রকল্প বলে মনে হচ্ছে। সঠিক তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া প্রয়োজন।’
জেলা পরিষদ ও স্থানীয় সূত্রে জানাগেছে, ভুয়া প্রকল্পের মাধ্যমে অর্থ আত্মসাতকারী চক্রের মূলহোতা হিসেবে অভিযুক্ত মোরেলগঞ্জ উপজেলার গাজিরঘাট গ্রামের মো. মাকসুদুর রহমান ওরফে মামুনসহ জেলা পরিষদো একটি চক্র। তহবে, মামুন ‘৭১ মুক্তিযোদ্ধা সংগ্রাম পরিষদ বাগেরহাট জেলা কমিটির সদস্য হিসেবে পরিচয় দেয়।
এ বিষয়ে তার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, সাবেক এক সচিবের মাধ্যমে তিনি এই বরাদ্ধ করিয়েছিলেন। স্থানীয়দের মাঝে বিষয়টি নিয়ে ভুল ধারনা রয়েছে। তিনি তিনটি মসজিদেও নামে জেলা পরিষদ থেকে নেয়া এই অর্থ ফেরত দিবেন বলেও জানান।
এদিকে বাগেরহাট জেলা পরিষদের নবনিযুক্ত প্রশাসক ব্যারিস্টার শেখ মোহাম্মদ জাকির হোসেন বলেন, ‘মসজিদের নামে তিনটি ভুয়া প্রকল্পের মাধ্যমে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগটি গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে। জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। ##
প্রকাশক ও সম্পাদক, মোঃ জিল্লুর রহমান,০১৮৫৯-৬৬৭৬০২,০১৭০৭-৫০১৪১৪নি,র্বাহী সম্পাদক, মোঃ আঃ রাজ্জাক সরকার, বার্তা সম্পাদক, মোঃ রতন মন্ডল
প্রধান কার্যালয়ঃ মিরপুর ১২ ঢাকা ১২১৬,mail: jillumia87@gmail.com
Copyright © 2026 দুর্নীতির তালাশ টিম. All rights reserved.