লাশ বহন করে জীবিকা-ছকু মিয়ার নেই স্থায়ী আয়ের নিশ্চয়তা-সরকারি সহায়তার দাবি
রানা ইস্কান্দার রহমান।
গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি।
ঝড়-বৃষ্টি-কাদা, রাত-দিন যাই হোক-ডাক পেলেই লাশ নিয়ে ছুটে চলতে হয় থানায়, মর্গে কিংবা নিহতের বাড়িতে। অস্বাভাবিক মৃত্যু, হত্যা কিংবা দুর্ঘটনা ঘটলেই প্রথমেই যার কথা মনে পড়ে, তিনি ছকু মিয়া। সমাজে অনেকেই এই কাজ করতে ভয় পান, কিন্তু সৎভাবে জীবিকা নির্বাহের জন্য এই কঠিন পেশাকেই বেছে নিয়েছেন তিনি।
জীবনের নিত্যপ্রয়োজন-অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা ও চিকিৎসার অধিকার নিশ্চিত করতেই প্রতিনিয়ত সংগ্রাম করে যাচ্ছেন ছকু মিয়া। গাইবান্ধা শহর থেকে প্রায় ৫ কিলোমিটার পশ্চিমে বল্লমঝাড় ইউনিয়নের ইসলামপুর গ্রামে টিনের দোচালা ঘরে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে তার বসবাস। আয়ের একমাত্র অবলম্বন একটি ভ্যান, যেটি নিয়েই তিনি ছুটে যান ঘটনাস্থলে।
লাশ সংগ্রহ করে তিনি তা নিয়ে যান গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে। আবার ময়নাতদন্ত শেষে মৃতদেহ স্বজনদের কাছে পৌঁছে দেন। এভাবেই শত শত লাশ বহন করে চলেছেন তিনি বছরের পর বছর।
ছোটবেলায় অভাবের কারণে স্কুলে যাওয়ার সুযোগ হয়নি তার। অল্প বয়সেই বিয়ে করে সংসারের দায়িত্ব নিতে হয়। একসময় ছোটখাটো ব্যবসা করলেও তা টিকিয়ে রাখতে পারেননি। পরে থানা পুলিশের সঙ্গে পরিচয়ের মাধ্যমে শুরু হয় তার লাশ বহনের কাজ। শুরুতে ভয় লাগলেও এখন সেটিই তার জীবিকার একমাত্র পথ।
ছকু মিয়া জানান, প্রথমে খুব ভয় লাগত। এখন অভ্যাস হয়ে গেছে। পঁচা-গলিত লাশও তুলতে হয়। অনেক সময় লাশের পাশে বসেই রাত কাটাতে হয়। কিন্তু যা আয় হয়, তা দিয়ে সংসার চলে না।
তার স্ত্রী রেখা বেগম বলেন, আগে পুলিশ বাড়িতে এসে খবর দিত। এখন ফোনে জানায়। কিন্তু অনেক সময় লাশ টেনেও ঠিকমতো টাকা পাওয়া যায় না। বেওয়ারিশ লাশ তো ফ্রিতেই বহন করতে হয়।
স্থানীয় প্রবীণ বাসিন্দা রহিম উদ্দিন বলেন, ছকু মিয়া খুব ভালো মানুষ। সে সমাজের জন্য কঠিন কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ কাজ করছে। সবাই যেখানে ভয় পায়, সেখানে সে এগিয়ে আসে।
গাইবান্ধা সদর থানার ওসি আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, লাশ বহনের কাজ কেউ করতে চায় না। কিন্তু ছকু মিয়া সাহসিকতার সঙ্গে এই দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি একটি মহৎ কাজের সঙ্গে জড়িত।
তবে এত গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেও নেই তার কোনো স্থায়ী বেতন বা সরকারি সুবিধা। প্রশাসনের বিভিন্ন কাজে নিয়মিত যুক্ত থাকলেও তিনি বঞ্চিত রয়েছেন ন্যায্য প্রাপ্য থেকে।
সচেতন মহলের দাবি, ছকু মিয়ার মতো যারা প্রশাসনের জরুরি কাজে নিয়োজিত, তাদের জন্য স্থায়ী চাকরি, নির্দিষ্ট মাসিক ভাতা বা সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করা জরুরি। এতে করে তাদের জীবনযাত্রা যেমন উন্নত হবে, তেমনি এই গুরুত্বপূর্ণ সেবাটিও আরও কার্যকর হবে।
ছকু মিয়ার জীবনের গল্প কেবল একজন লাশ বাহকের গল্প নয়-এটি বেঁচে থাকার সংগ্রামের এক নির্মম বাস্তবতা। এখন প্রশ্ন একটাই-সমাজ ও রাষ্ট্র কি এই মানুষটির পাশে দাঁড়াবে?
প্রকাশক ও সম্পাদক, মোঃ জিল্লুর রহমান,০১৮৫৯-৬৬৭৬০২,০১৭০৭-৫০১৪১৪নি,র্বাহী সম্পাদক, মোঃ আঃ রাজ্জাক সরকার, বার্তা সম্পাদক, মোঃ রতন মন্ডল
প্রধান কার্যালয়ঃ মিরপুর ১২ ঢাকা ১২১৬,mail: jillumia87@gmail.com
Copyright © 2026 দুর্নীতির তালাশ টিম. All rights reserved.