কালীগঞ্জে শিক্ষা কর্মকর্তার অফিসে প্রধান শিক্ষকের তাণ্ডব, জুতা পেটার অভিযোগ
মোঃ আজগার আলী, সাতক্ষীরা জেলা প্রতিনিধি:
সাতক্ষীরার কালীগঞ্জ উপজেলায় শিক্ষা কর্মকর্তার অফিসে ঢুকে হুমকি, অশালীন আচরণ এবং ঘুষ দেওয়ার চেষ্টা করতে গিয়ে এক প্রধান শিক্ষককে জুতা পেটা করার অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক শফিকুল ইসলাম কালীগঞ্জ আদর্শ মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এবং নাশকতা মামলার একজন আসামি বলেও জানা গেছে।
ঘটনাটি ঘটে গত ১৬ মার্চ বিকাল আনুমানিক ৩টার দিকে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার (ভারপ্রাপ্ত) জয়নাল আবেদীনের অফিস কক্ষে। অভিযোগ অনুযায়ী, বর্ধিত বকেয়া বেতন-ভাতার কাগজে স্বাক্ষর না করায় ক্ষিপ্ত হয়ে শফিকুল ইসলাম কয়েকজন সহযোগী নিয়ে অফিসে প্রবেশ করেন। সেখানে তিনি জামায়াতের প্রভাবশালী নেতাদের নাম ব্যবহার করে শিক্ষা কর্মকর্তাকে হুমকি দেন এবং অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জয়নাল আবেদীন সাংবাদিকদের জানান, সহকারী প্রধান শিক্ষক জালাল উদ্দিনের এমপিওভুক্তির কাগজপত্র দীর্ঘদিন ধরে আটকে রাখা এবং ঘুষ দাবি করার অভিযোগ থাকায় শফিকুল ইসলামের ফাইলে স্বাক্ষর করা হয়নি। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে শফিকুল ইসলাম অফিসে এসে তাকে মারধরের চেষ্টা করলে আত্মরক্ষার্থে তিনি ও অফিসের কর্মচারীরা তাকে জুতা পেটা করে বের করে দেন।
এরপর শফিকুল ইসলাম স্থানীয় সংসদ সদস্য হাফেজ মুহাদ্দিস রবিউল বাশারের অফিসে গিয়ে উল্টো অভিযোগ করলে বিষয়টি জানার পর সেখান থেকেও তাকে বের করে দেওয়া হয় বলে জানা গেছে।
এদিকে, শফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে আগে থেকেই নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ আছে, শিক্ষক নিয়োগে প্রায় অর্ধকোটি টাকা ঘুষ গ্রহণ, স্কুলে অনুপস্থিত থেকে দলীয় কর্মকাণ্ডে ব্যস্ত থাকা এবং বিভিন্ন আর্থিক অনিয়মের কারণে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও এলাকাবাসী তার অপসারণের দাবিতে সড়ক অবরোধ ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে। সে সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন করা হয়।
এছাড়াও, ২০২৫ সালের একটি নাশকতা মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে যান শফিকুল ইসলাম এবং পরে জামিনে মুক্তি পান। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী এমন মামলায় জড়িত শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্ত করার কথা থাকলেও তাকে বহাল রাখায় সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
অন্যদিকে, সহকারী প্রধান শিক্ষক জালাল উদ্দিন দীর্ঘ ২৪ বছর ধরে এমপিওভুক্ত না হয়ে বেতনহীন অবস্থায় চাকরি করে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। নিয়োগের সময় তার কাছ থেকে ১০ লাখ টাকার বেশি ঘুষ নেওয়া হলেও এখনো তার এমপিওভুক্তির ব্যবস্থা করা হয়নি।
বর্তমান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অসুস্থ থাকায় ভারপ্রাপ্ত দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তার কাছেও শফিকুল ইসলাম বেতন সংক্রান্ত কাগজে স্বাক্ষর করানোর চেষ্টা করে ব্যর্থ হন।
ঘটনার বিষয়ে অভিযুক্ত শফিকুল ইসলামের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। অপরদিকে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্রকাশক ও সম্পাদক, মোঃ জিল্লুর রহমান,০১৮৫৯-৬৬৭৬০২,০১৭০৭-৫০১৪১৪নি,র্বাহী সম্পাদক, মোঃ আঃ রাজ্জাক সরকার, বার্তা সম্পাদক, মোঃ রতন মন্ডল
প্রধান কার্যালয়ঃ মিরপুর ১২ ঢাকা ১২১৬,mail: jillumia87@gmail.com
Copyright © 2026 দুর্নীতির তালাশ টিম. All rights reserved.