গাইবান্ধায় ভাগে জমি কম পাওয়ায় বাবার কবর ভাঙচুর
রানা ইস্কান্দার রহমান।
গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি।
গাইবান্ধার সদর উপজেলায় বাবার জমি ভাগে অন্য ভাইদের তুলনায় কম পাওয়ায় রাগ ও ক্ষোভে নিজ বাবার কবর ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে।
এমন একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। বাবার কবরে ছেলের এমন কর্মকাণ্ডে এলাকায় ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) দুপুরে সদর উপজেলার খোলাহাটী ইউনিয়নের দক্ষিণ আনালেরতাড়ি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
১ মিনিট ১০ সেকেন্ডের ভিডিওতে দেখা যায়, এক যুবক প্যান্ট ও গেঞ্জি পরে হাতে শক্ত কোনো বস্তু দিয়ে মাটিতে আঘাত করছেন। কবরের ওপর থাকা ছোট গাছ ও বুনো ঘাস কেটে ফেলছেন। বাঁশ ও প্লাস্টিক দিয়ে ঘেরা কবরের চারপাশের খুঁটিগুলো লাথি মেরে ভেঙে ফেলছেন। কবরের চারপাশের সবকিছুই তিনি ভাঙচুর করেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, খোলাহাটী ইউনিয়নের দক্ষিণ আনালেরতাড়ি গ্রামের মৃত আব্দুল মান্নান মিয়ার কবর এটি। কবর ভাঙচুর করা ব্যক্তির নাম শাহ আলম। তিনি আব্দুল মান্নান মিয়ার ছোট ছেলে এবং অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য। মঙ্গলবার দুপুরে বাবার কবরে গিয়ে ভাঙচুর করেন তিনি। পরে স্থানীয়রা সেই ভিডিও ধারণ করে ফেসবুকে ছড়িয়ে দেয়।
খোলাহাটী ইউপি সদস্য আব্দুল হাই মিয়া বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি স্থানীয়দের বরাত দিয়ে জানান, আনালেরতাড়ি গ্রামের আব্দুল মান্নান মিয়ার পাঁচ ছেলে। ৩-৪ বছর আগে মান্নান মিয়া মারা যান। মৃত্যুর আগে তিনি তার জমি পাঁচ ছেলের মধ্যে ভাগ করে দেন। তবে তিনি গোপনে তার দ্বিতীয় ছেলে ইকবাল মিয়াকে অতিরিক্ত কিছু জমি লিখে দেন। পরে কয়েক বছর পর একই জমি গোপনে ছোট ছেলে শাহ আলমকেও লিখে দেন। সম্প্রতি জমি ভাগ করতে গেলে বিষয়টি প্রকাশ পায়। একই জমি দুই ছেলেকে লিখে দেওয়ায় বিরোধ সৃষ্টি হয়। মঙ্গলবার শাহ আলম রাগ ও ক্ষোভে বাবার কবরে গিয়ে এমন কর্মকাণ্ড ঘটান।
ইউপি সদস্য আরও বলেন, ‘বিষয়টি জানার পর ঘটনাস্থলে গিয়ে উভয় পক্ষকে নিয়ে বসে সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে।’
স্থানীয় স্কুলশিক্ষক মিজানুর রহমান বলেন, ‘বড় ছেলে ইকবাল মিয়ার দখলে থাকা জমিতে তার বাবার কবর। কবরের জায়গাটি ছোট ছেলে শাহ আলম নিজের জমি দাবি করে বাবার কবর ভাঙচুর করে। জমির জন্য নিজের বাবার কবরে অসম্মানজনক আচরণ করা খুবই দুঃখজনক।’
একই গ্রামের বাসিন্দা আমজাদ হোসেন বলেন, ‘এই ছেলের শাস্তি হওয়া দরকার, যাতে ভবিষ্যতে কেউ এমন জঘন্য কাজ করার সাহস না পায়। ইসলামে কবরের ওপর দিয়ে হাঁটা বা অসম্মানজনক আচরণ নিরুৎসাহিত করা হয়েছে।’
এদিকে, শাহ আলম মিয়ার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাকে পাওয়া যায়নি।
গাইবান্ধা সদর থানার ওসি আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, এ ঘটনায় থানায় কেউ অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রকাশক ও সম্পাদক, মোঃ জিল্লুর রহমান,০১৮৫৯-৬৬৭৬০২,০১৭০৭-৫০১৪১৪নি,র্বাহী সম্পাদক, মোঃ আঃ রাজ্জাক সরকার, বার্তা সম্পাদক, মোঃ রতন মন্ডল
প্রধান কার্যালয়ঃ মিরপুর ১২ ঢাকা ১২১৬,mail: jillumia87@gmail.com
Copyright © 2026 দুর্নীতির তালাশ টিম. All rights reserved.