
সিলেট বিভাগের দু’টি আসনের বিপরীতে ১১ দাবি দার সিলেটের ১১ নেত্রী জোর লবিং
মোঃ আব্দুর রব : সিলেট বিভাগীয় প্রতিনিধি
এয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন শেষ হওয়ার পর সংরক্ষিত নারী আসন নিয়ে শুরু হয়েছে নতুন হিসাব-নিকাশ।
রাজনৈতিক অঙ্গনে জোরালো আলোচনা—সিলেট বিভাগ থেকে দু’জন নারী সংসদ সদস্য মনোনয়ন পেতে পারেন।
ফলে বিভাগের চার জেলা—সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ—থেকে অন্তত ১০ জন নেত্রী সক্রিয়ভাবে লবিং ও তৎপরতা শুরু করেছেন।
সাম্প্রতিক নির্বাচনে কয়েকজন নারী নেতা সরাসরি সাধারণ আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন।
কেউ মনোনয়ন পেয়েছেন, কেউ পাননি। মনোনয়নবঞ্চিত নেত্রীরা এখন সংরক্ষিত আসনে এমপি হওয়ার দৌড়ে মাঠে নেমেছেন।
আলোচনায় থাকা নেত্রীদের মধ্যে রয়েছেন বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির স্থানীয় সরকারবিষয়ক সহ-সম্পাদক ও সাবেক এমপি শাম্মী আক্তার।
দীর্ঘ ১৭ বছর আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকার কারণে তৃণমূল নেতাকর্মীদের একটি অংশ তাঁকে এগিয়ে রাখছেন।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া’র রাজনৈতিক সচিব প্রয়াত হারিছ চৌধুরী’র কন্যা ব্যারিস্টার সামিরা তানজিন চৌধুরীও আলোচনায় রয়েছেন। তিনি সিলেট-৫ আসনে মনোনয়ন দৌড়ে ছিলেন এবং গণ-আন্দোলন-পরবর্তী সময় থেকে মাঠে সক্রিয়।
স্থানীয় নেতাকর্মীদের একাংশ উন্নয়নের স্বার্থে তাঁকে সংরক্ষিত আসনে দেখতে চান বলে জানা গেছে।
সিলেট-৬ আসনে সাধারণ আসনের মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন সাবেক এমপি প্রয়াত ড. সৈয়দ মকবুল হোসেন (লেচু মিয়া)’র কন্যা সৈয়দা আদিবা হোসেন এবং যুক্তরাজ্য বিএনপির সাবেক সভাপতি প্রয়াত কমর উদ্দিনের কন্যা সাবিনা খান পপি।
দু’জনই নির্বাচনী মাঠে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন এবং দলীয় প্রার্থীর পক্ষে কাজ করেন।
সিলেট সিটি করপোরেশনের সাবেক প্যানেল মেয়র ও মহিলা দল নেত্রী অ্যাডভোকেট রোকশানা বেগম শাহনাজও সিসিকের সাবেক কাউন্সিলর সালেহা কবির শেপি সংরক্ষিত আসনের সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায়।
দলীয় দুর্দিনে সংগঠনকে সক্রিয় রাখার ক্ষেত্রে তাদের ভূমিকা উল্লেখযোগ্য বলে নেতাকর্মীরা জানান।
এছাড়া বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট হাদিয়া চৌধুরী মুন্নি, মহিলা দলের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি সামিয়া বেগম চৌধুরী, সিলেট জেলা মহিলা দলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি তাহসিন শারমিন তামান্না (নিখোঁজ ছাত্রদল নেতা ইফতেখার হোসেন দিনারের বোন), সাবেক এমপি মরহুম দিলদার হোসেন সেলিমের স্ত্রী জেবুন নাহার সেলিম এবং সুনামগঞ্জের সাবেক এমপি বীর মুক্তিযোদ্ধা নজির হোসেনের স্ত্রী সালমা নজিরের নামও জোরালোভাবে শোনা যাচ্ছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকা, পারিবারিক রাজনৈতিক ঐতিহ্য এবং তৃণমূল পর্যায়ে গ্রহণযোগ্যতা—এই তিনটি বিষয় মনোনয়নের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।
বিশেষ করে প্রয়াত নেতাদের পরিবারের সদস্যদের ঘিরে দলীয় আবেগ ও সহানুভূতিও আলোচনায় প্রভাব ফেলছে।
দলীয় সূত্র বলছে, কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের ওপরই শেষ পর্যন্ত নির্ভর করবে সংরক্ষিত নারী আসনের মনোনয়ন।
তবে সিলেট বিভাগ থেকে দু’জন এমপি হওয়ার সম্ভাবনা থাকায় প্রতিযোগিতা তীব্র আকার ধারণ করেছে।
এদিকে সম্ভাব্য প্রার্থীরা নিজ নিজ রাজনৈতিক যোগাযোগ, তৃণমূল সমর্থন ও কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে বৈঠক জোরদার করেছেন।
এখন দেখার বিষয়—দলীয় হাইকমান্ড কাদের হাতে সংরক্ষিত নারী আসনের দায়িত্ব তুলে দেয়।
© All rights reserved © 2025
Leave a Reply