সেনা ও র্যাব সদস্য পরিচয়ে প্রতারণা: গাইবান্ধায় র্যাব-১৩ এর অভিযানে মূলহোতা গ্রেপ্তার
রানা ইস্কান্দার রহমান।
গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি।
সেনা ও র্যাব সদস্য পরিচয়ে সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণার অভিযোগে গাইবান্ধায় অভিযান চালিয়ে মূলহোতাকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)-১৩।
র্যাব সূত্র জানায়, 'বাংলাদেশ আমার অহংকার'এই মূলমন্ত্রকে ধারণ করে এলিট ফোর্স র্যাব নিয়মিতভাবে চাঞ্চল্যকর হত্যা, অপহরণ, ধর্ষণ, ডাকাতি, ছিনতাইসহ অনলাইন জুয়া ও বিভিন্ন ধরনের প্রতারণামূলক অপরাধ দমনে অভিযান পরিচালনা করে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় সেনা ও র্যাব পরিচয়ে প্রতারণার একটি ঘটনায় অভিযান চালানো হয়।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গ্রেপ্তারকৃত আসামি আল আমিন (২৭) নিজেকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সদস্য এবং বর্তমানে গাইবান্ধা র্যাব ক্যাম্পে কর্মরত বলে পরিচয় দেয়। সে ভিকটিম নন্দলালের সিএনজিতে যাতায়াতের সময় পরিচিত হয় এবং বিশ্বাস অর্জন করে বেদখল হওয়া জমি উদ্ধার করে দেওয়ার প্রলোভন দেখায়। পরে গাইবান্ধা বাসস্ট্যান্ডে ডেকে এনে জমি উদ্ধারের কথা বলে ভিকটিমের কাছ থেকে ১৪ হাজার টাকা গ্রহণ করে।
কাজ না হওয়ায় ভিকটিম পরবর্তীতে যোগাযোগের চেষ্টা করলে প্রতারকের মোবাইল নম্বর বন্ধ পাওয়া যায়। বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হওয়ায় ভিকটিম গাইবান্ধা র্যাব ক্যাম্পে খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন, আল আমিন নামে কোনো র্যাব সদস্য সেখানে কর্মরত নেই। পরে ভিকটিম নন্দলাল বাদী হয়ে গত ৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে গাইবান্ধা সদর থানায় পেনাল কোডের ১৭০/৪০৬/৪২০ ধারায় একটি প্রতারণা মামলা দায়ের করেন (মামলা নং-১১)।
এরই প্রেক্ষিতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাব-১৩ এর সিপিসি-৩, গাইবান্ধা ক্যাম্পের একটি চৌকস আভিযানিক দল তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের সহায়তায় ৭ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাত ১টা ৪৫ মিনিটে গাইবান্ধা সদর থানাধীন দক্ষিণ ধানঘড়া এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে আত্মগোপনে থাকা অবস্থায় প্রতারণা মামলার প্রধান আসামি আল আমিনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার বাড়ি কুড়িগ্রাম জেলার উলিপুর পৌরসভার নারিকেলবাড়ী এলাকায়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, আসামি বিভিন্ন সময়ে নিজেকে সেনাবাহিনী ও র্যাবের সদস্য পরিচয় দিয়ে প্রতারণার মাধ্যমে একাধিক ব্যক্তির কাছ থেকে অর্থ আত্মসাৎ করেছে। ভিকটিমদের বিশ্বাস অর্জনের জন্য সে নিজের মোবাইলে বিভিন্ন সিমকার্ডের নম্বর কর্নেল-লেফটেন্যান্ট কর্নেল ‘ব্রিগেডিয়ার জেনারেল’ ইত্যাদি নামে সংরক্ষণ করত। এছাড়া বিভিন্ন বাহিনীর ব্যবহৃত সরঞ্জাম দেখিয়ে কাজ করে দেওয়ার মিথ্যা আশ্বাস দিত এবং টাকা নেওয়ার পর যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিত।
গ্রেপ্তারকৃত আসামির হেফাজত থেকে উদ্ধার করা হয়-এক জোড়া সেনাবাহিনীর বুট, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ব্যাগ, এক জোড়া হ্যান্ডকাফ, সেনাবাহিনীর আইডি কার্ড, অফিসিয়াল সিল, মোবাইল পাস, নেমপ্লেট, সেনাবাহিনী লেখা স্টিকার, চাকুরি সংক্রান্ত বিভিন্ন ভুয়া নথিপত্র এবং একাধিক সিমকার্ডসহ একটি মোবাইল ফোন।
তরিকুল ইসলাম,সিনিয়র এএসপি,
গাইবান্ধা জেলা র্যাব কমান্ডার জানায়, গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। একই সঙ্গে এ ধরনের প্রতারণা চক্রের বিরুদ্ধে র্যাব-১৩ এর গোয়েন্দা নজরদারি ও চলমান অভিযান অব্যাহত থাকবে।
প্রকাশক ও সম্পাদক, মোঃ জিল্লুর রহমান,০১৮৫৯-৬৬৭৬০২,০১৭০৭-৫০১৪১৪নি,র্বাহী সম্পাদক, মোঃ আঃ রাজ্জাক সরকার, বার্তা সম্পাদক, মোঃ রতন মন্ডল
প্রধান কার্যালয়ঃ মিরপুর ১২ ঢাকা ১২১৬,mail: jillumia87@gmail.com
Copyright © 2026 দুর্নীতির তালাশ টিম. All rights reserved.