সাতক্ষীরায় নির্মাণাধীন ভবনে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ
মোঃ আজগার আলী, জেলা প্রতিনিধি, সাতক্ষীরা:
সাতক্ষীরা শহরের পলাশপোল এলাকায় ইসলামী হাসপাতালের সামনে নির্মাণাধীন ১০ তলা ভবনের কাজ বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ভবন নির্মাণকাজে নিয়োজিত সাব-কন্টাক্টর মো. শহিদুল ইসলামের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি এবং চাঁদা না দিলে হাত-পা ভেঙে পঙ্গু করে দেওয়াসহ প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ৬ জনের নাম উল্লেখ করে ১০ থেকে ১৫ জনের বিরুদ্ধে।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী সাব-কন্টাক্টর মো. শহিদুল ইসলাম বাদী হয়ে ছয়জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ১০ থেকে ১৫ জনকে অভিযুক্ত করে সাতক্ষীরা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, শহিদুল ইসলাম সাতক্ষীরা সদর উপজেলার মাছখোলা গ্রামের মুক্তার আলী সরদারের ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে সুনামের সঙ্গে বিভিন্ন নির্মাণকাজ পরিচালনা করে আসছেন। বর্তমানে সাতক্ষীরা শহরের পলাশপোল ইসলামী হাসপাতালের সামনে একটি ১০ তলা ভবন নির্মাণ প্রকল্পে সাব-কন্টাক্টর হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
লিখিত অভিযোগে অভিযুক্ত ছয়জন হলেন—আব্দুল্লাহ সরদার (৪৬), পিতা ছামছুদ্দীন সরদার, সাং কাটিয়া; মো. শহিদুল ইসলাম (৩৮), পিতা জমাত বাজুমদার, সাং মাছখোলা; আছাদুল ইসলাম (৪৫), পিতা সবিল উদ্দীন মোল্যা, সাং মাছখোলা শিবতলা; মো. শামছুর আলী (৪৪), পিতা অজ্ঞাত, সাং পলাশপোল; মামুন (৩৫), পিতা অজ্ঞাত, সাং পলাশপোল খুলনা রোড মোড় এবং তফুর আলী (৪৮), পিতা নুর আলী সরদার, সাং পলাশপোল উত্তর। তাঁদের সবার থানা ও জেলা সাতক্ষীরা। এ ছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ১০ থেকে ১৫ জনকে অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
অভিযোগে শহিদুল ইসলাম উল্লেখ করেন, অভিযুক্ত ব্যক্তিরা দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্নভাবে তাঁকে হুমকি দিয়ে আসছিলেন। এরই ধারাবাহিকতায় গত ২৫ অক্টোবর ২০২৬ তারিখ বেলা আনুমানিক ৩টার দিকে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র, লোহার রড ও চাইনিজ কুড়াল নিয়ে নির্মাণাধীন ভবনের সাইটে প্রবেশ করেন। সেখানে তাঁরা তাঁর কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন।
তিনি চাঁদার টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে অভিযুক্তরা ক্ষিপ্ত হয়ে তাঁকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং তাঁর ও কর্মরত শ্রমিকদের ওপর চড়াও হন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এ সময় অস্ত্র উঁচিয়ে তাঁকে হুমকি দিয়ে বলা হয়, দাবিকৃত চাঁদার টাকা না দিলে পরবর্তীতে নির্মাণকাজে আসলে হাত-পা ভেঙে পঙ্গু করে দেওয়া হবে এবং প্রাণনাশের ব্যবস্থা করা হবে।
এ ঘটনায় পর থেকে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগী সাব-কন্টাক্টর। তাঁর অভিযোগ, হুমকি ও আতঙ্কের কারণে নির্মাণাধীন ভবনের কাজ পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। একই সঙ্গে কর্মরত শ্রমিকরাও আতঙ্কিত হয়ে কাজে আসতে চাইছেন না। ফলে নির্মাণকাজ ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে।
অভিযোগে স্থানীয় সাক্ষী হিসেবে রেজাউল ইসলাম, মিজানুর রহমান ও ওহাব আলীসহ আরও অনেকের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁরা ঘটনার বিষয়ে অবগত রয়েছেন বলে বাদী তাঁর লিখিত অভিযোগে দাবি করেছেন।
এ বিষয়ে সাতক্ষীরা থানার এএসআই নাছির উদ্দীনের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “এ ঘটনায় দুপক্ষের দুটি অভিযোগ পেয়েছি। উভয় পক্ষকে নিয়ে বসাবসির জন্য প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। শহিদুল ইসলামের পক্ষ হাজির হলেও অপর পক্ষ হাজির হয় না। যে কারণে বিষয়টির সমাধান করা যাচ্ছে না।”
এ ঘটনায় নির্মাণাধীন ভবনের কাজ বন্ধ থাকায় স্থানীয়ভাবে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগী অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত, নিজের ও শ্রমিকদের নিরাপত্তা এবং নির্মাণকাজ নির্বিঘ্নে চালিয়ে যাওয়ার জন্য প্রশাসনের প্রয়োজনীয় হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
প্রকাশক মোঃ জিল্লুর রহমান <br>
বার্তা সম্পাদক মোঃ আলমগীর রতন মন্ডল <br>
সম্পাদক মোঃ রানা ইস্কান্দার রহমান <br>
নির্বাহী সম্পাদক মোঃ আঃ রাজ্জাক সরকার <br>
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক মোঃ আঃ হালিম সরকার <br>
প্রধান কার্যালয়ঃ ঢাকা মিরপুর ১২ পল্লবী থানা পল্লবী মহল্লা মোবাইল নং <br>
01859667602
Copyright © 2026 durnitirtalashteam.com. All rights reserved.