বাগেরহাটে ২শ ১৬ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত
১১টি নতুন ব্রীজ-কালভার্টে নেই ওঠার রাস্তা,
মোঃ সোহরাব হোসেন রতন,বাগেরহাট
বাগেরহাট জেলার গুরুত্বপূর্ণ নদী-খালের উপর ২শত ১৬ কোটি টাকার ব্যয়ে নির্মিত নতুন ১১টি ব্রীজ কালভার্টে নেই ওঠার রাস্তা। আর এ কারণে সাধারণের চলাচলে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। সড়ক যোগাযোগ দ্রুত ও নিরাপদ করতে নির্মিত নতুন এসব ব্রীজ কালভার্টের মধ্যে সড়ক বিভাগের রয়েছে ১০টি ও এলজিইডির রয়েছে ১টি কালভার্ট। এরমধ্যে সড়ক বিভাগের সাইবোর্ড-মোরেলগঞ্জ-শরণখোলা আঞ্চলিক মহাসড়কের বারুইখালী, নলবুনিয়া, তাফালবাড়ি ও শ্যামব্যাপারি খালের উপর ৪৭ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত বিশাল ৪টি ব্রীজ এবং বাগেরহাট-ডেমা-রামপাল-মোংলা সড়কে বিভিন্ন নদীতে ১৬৯ কোটি টাকা ব্যায়ে বিশাল বিশাল ৮টি ব্রীজের মধ্যে ইতিমধ্যেই ৬টির নির্মাণ কাজ শেষ হয়েছে। এই ৬টি ব্রীজ নির্মাণ হলেও ব্রীজে ওঠার সংযোগ সড়ক অভাবে প্রতিদিন শত-শত যাববাহন ঝঁকিপূর্ণ বেইলী ব্রীজ ও মেয়দ উত্তির্ণ সেতুর উপর দিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। কোন কাজে আসছে না নতুন ব্রীজ নির্মাণ। বিগত তিন বছরের অধিক সময় ধরে জনদূর্ভোগ চরম আকার ধারন করেছে। ফলে পুরাতন ঝঁকিপূর্ণ বেইলী ব্রীজ ও মেয়দ উত্তির্ণ সেতুর উপর দিয়ে যানবাহনগুলো চলাচল করতে গিয়ে প্রায়ই ঘটছে দূর্ঘটনা।
সাইবোর্ড-মোরেলগঞ্জ-শরণখোলা আঞ্চলিক মহাসড়ক ও বাগেরহাট-ডেমা-রামপাল-মোংলা সড়কে প্রতিদিন চলাচলকারি একাধিক যাত্রীবাহী পরিবহন ও ট্রাক-পিকআপ চালকরা জানান, তারা তির বছরেরও অধিক সময় ধরে এই দুটি সড়ক ও মহাসড়কের পুরাতন ঝঁকিপূর্ণ বেইলী ব্রীজ ও মেয়দ উত্তির্ণ সেতুর উপর দিয়ে যানবাহনগুলো চলাচল করতে গিয়ে প্রায়ই ঘটছে দূর্ঘটনা পড়ছেন। নতুন ব্রীজ নির্মাণ হলেও ব্রীজে ওঠার সংযোগ সড়ক অভাবে তারা কোন সুফল পাচ্ছেনা। কোন কাজে আসছে না নতুন ব্রীজ নির্মাণ।
বাগেরহাট সড়ক সড়ক বিভাগের নিবার্হী প্রকৌশলী মো. আশরাফুল ইসলাম জানান, বিগত ড. ইউসুস সরকারের আমলে নতুন নির্মিত এসব ব্রীজের সংযোগ সড়কের জন্য ভূমি অধিগ্রহনে বাগেরহাট জেলা প্রশাসন কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহন না করায় সংযোগ সড়ক নির্মাণ করা সম্ভব হয়নি। এই অবস্থার মধ্যে প্রতিদিন এসব স্থানের ঝঁকিপূর্ণ বেইলী ব্রীজ ও মেয়দ উত্তির্ণ সেতুর উপর দিয়ে চলাচল করছে। বর্তমান সরকারের সড়ত ও সেতু মন্ত্রী রবিউল আলমের নিজ জেলা বাগেরহাটে ইতিমধ্যেই ক্ষতিগ্রস্থ ভূমি মালিকদের জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে অধিগ্রহনের চেক প্রদানের কাজ শুরু হয়েছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে ইতিমধ্যেই সড়ক বিভাগের নতুন নির্মিত সব ব্রীজের সংযোগ সড়ক নির্মাণ কাজ দ্রুত শেষ করতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। আশা করছি আগামী জুনের মধ্যেই সংযোগ সড়ক নির্মাণ কাজ শেষ হলে দীর্ঘ কয়েক বছরের জনদূর্ভোগের অবসান হবে।
অন্যদিকে এলজিইডি’র সংযোগ সড়ক না থাকা কালভার্ট রয়েছে বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলার রাড়ীপাড়া ইউনিয়নের কাকারবিল এলাকায়। ২৮ লাখ ২৯ হাজার ৮০১ টাকা ব্যয়ে ৫ দশমিক ৫০ মিটার কালভার্টটি নির্মাণের চার মাস পেরিয়ে গেলেও তৈরি হয়নি কোন সংযোগ সড়ক। ফলে কালভার্ট থাকলেও তাতে ওঠার কোনো পথ নেই। বিকল্প পথ না থাকায় প্রতিদিন পানির মধ্য দিয়েই চলাচল করতে হচ্ছে পাঁচ গ্রামের দেড় হাজার মানুষকে। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছে স্কুলশিক্ষার্থী, নারী ও বয়স্করা।
কাকারবিল এলাকায় তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ইয়াসিন, একই শ্রেণির শিক্ষার্থী তোবা জানায়, খালের উপর কালভার্ট নির্মা করা হলেও মাটি দিয়ে উচু করা হয়নি, সংযোগ সড়ক না থাকায় আমরা এই খাল পার হতে পারি না। খুব কষ্ট হয়। স্কুলে যেতেও ভিজতে হয়, আসতেও ভিজতে হয়। আমরা দ্রুত এর সমাধান চাই। স্থানীয় বাসিন্দা সাবিনা আক্তার বলেন, এই কাকারবিল সড়ক দিয়ে পাঁচ গ্রামের মানুষ চলাচল করে। আমার দুই ছেলে-মেয়ে স্কুলে পড়ে। একজনকে সকাল ৯টায় স্কুলে দিয়ে আসতে হয়, আরেকজনকে দুপুর ১২টায়। দিনে চারবার আমাকে এই পানির মধ্য দিয়ে যাওয়া-আসা করতে হয়। কিছুদিন আগে এখান থেকে পড়ে গিয়ে সন্তানের বইও পানিতে ভিজে গেছে। আমরা কালভার্টের সংযোগস্থল সংস্কার চাই।
বাগেরহাট এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ মঞ্জুর রশিদ জানান, আগামী ডিসেম্বরের মধ্যেই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কাকারবিল কালভার্টটির সংযোগ সড়ক নির্মাণ কাজ শেষ করতে চুড়ান্ত নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। তা না হলে ঠিকাদারকে কালো তালিকাভুক্ত করাসহ কালভার্ট নির্মাণের টাকা আটকে রাখা হবে। ##
বাগেরহাট
২৬. ১০. ২০২৬
প্রকাশক মোঃ জিল্লুর রহমান <br>
বার্তা সম্পাদক মোঃ আলমগীর রতন মন্ডল <br>
সম্পাদক মোঃ রানা ইস্কান্দার রহমান <br>
নির্বাহী সম্পাদক মোঃ আঃ রাজ্জাক সরকার <br>
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক মোঃ আঃ হালিম সরকার <br>
প্রধান কার্যালয়ঃ ঢাকা মিরপুর ১২ পল্লবী থানা পল্লবী মহল্লা মোবাইল নং <br>
01859667602
Copyright © 2026 durnitirtalashteam.com. All rights reserved.