
গোবিন্দগঞ্জে অবৈধ কয়লা কারখানার বিরুদ্ধে এলাকাবাসীর ক্ষোভ, প্রশাসন নীরব
রানা ইস্কান্দার রহমান।
গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি।
গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার মহিমাগঞ্জ ইউনিয়নে অবৈধ কয়লা কারখানা গড়ে ওঠায় চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী। কোনো বৈধ অনুমোদন ছাড়াই কয়লা কারখানাটি পরিচালিত হওয়ায় পরিবেশ, কৃষি এবং সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা হুমকির মুখে পড়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গোপালপুর এলাকায় অবৈধ কয়লা কারখানা গড়ে উঠেছে। এই কারখানা থেকে প্রতিনিয়ত কালো ধোঁয়া নির্গত হয়ে বাতাস দূষিত করছে। ধোঁয়ার প্রভাবে আশপাশের ফসলের জমি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং পানির উৎস দূষণের শিকার হচ্ছে। বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধদের মধ্যে শ্বাসকষ্ট, চোখ জ্বালা-পোড়া এবং চর্মরোগের প্রকোপ বাড়ছে।
সরেজমিন দেখা যায়, এর আগেও সেখানে প্রশাসন অভিযান চালিয়ে কারখানাটি বন্ধ দিলেও দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর স্থানীয় বাসিন্দা প্রকাশ আবার কারখানাটি চালু করেছেন। সেখানে ১০টি চুল্লিতে রাত-দিন কাঠ ও গাছের গুঁড়ি পুড়িয়ে কয়লা তৈরি করা হচ্ছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, স্থানীয় প্রশাসনকে বারবার অবহিত করা হলেও তারা কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি।
স্থানীয় কৃষক রাজা মিয়া বলেন, আমাদের ফসল ঠিকমতো হচ্ছে না। কয়লার ধোঁয়ায় জমির ধান ও শাকসবজি নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। আমরা পরিবার চালাবো কিভাবে?
অন্য এক বাসিন্দা গোলাপী বেগম জানান, দিনরাত ধোঁয়ার মধ্যে থাকতে হচ্ছে। বাচ্চারা কাশি-শ্বাসকষ্টে ভুগছে। অথচ কারখানার মালিক কোনো কথা শুনে না।
স্থানীয় যুবক রাসেল ইসলাম বলেন, এই কয়লা কারখানা পুরো এলাকায় বিষ ছড়াচ্ছে। আমরা চাই উপজেলা প্রশাসন দ্রুত ব্যবস্থা নেবে, তা না হলে আগামীতে গ্রামের সবাই অসুস্থ হয়ে পড়বে।
এ বিষয়ে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সৈয়দা ইয়াসমিন সুলতানার বক্তব্য জানতে তার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।
এলাকাবাসীর একমাত্র দাবি অবৈধ কয়লা কারখানাটি দ্রুত বন্ধ করে স্বাস্থ্য ও পরিবেশ রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হোক।
Leave a Reply