1. admin@pratidindurnitirtalash.com : pratidindurnitirtalash : pratidindurnitirtalash
  2. zakirhosan68@gmail.com : zakirbd :
বুধবার, ০১ জুলাই ২০২৬, ০২:১৮ পূর্বাহ্ন

খাসজমি বন্দোবস্তঃ তিন কোটি টাকা আত্মসাত

Reporter Name
  • Update Time : মঙ্গলবার, ৩০ জুন, ২০২৬
  • ৪০ Time View

খাসজমি বন্দোবস্তঃ তিন কোটি টাকা আত্মসাত
…………………………………
সাদুল্যাপুরে ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা, সার্ভেয়ার, এসি ল্যান্ড ও জেলা অধিগ্রহণ কর্মকর্তা-কর্মচারী জড়িত!

মোনায়েম মন্ডলঃ সাদুল্যাপুরে খাসজমি বন্দোবস্ত দেখিয়ে তিন কোটি টাকা আত্মসাত সিন্ডিকেট ঘটনার মুল নায়ক তৎকালীন ধাপেরহাট ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা। তাকে সহযোগিতা করেন তৎকালীন সার্ভেয়ার ও এসি ল্যান্ডের দায়িত্বে থাকা ইউএনও এবং অধিগ্রহণ সেক্টরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ। তাদের এই সুদুর প্রসারী দুর্নীতির নীল নকশা ধামাচাপা দিতে পরবর্তীতে সুপরিকল্পিত ভাবে সহযোগিতা করেন এসি ল্যান্ড জসিম উদ্দিন। কিন্তু ব্যর্থ হয় এসি ল্যান্ড জসিম উদ্দিন কর্তৃক দুই সাংবাদিককে লাঞ্ছিতের ঘটনায়! ফাঁস হয়ে যায় তাদের দুর্নীতির খতিয়ান। তাৎক্ষণিক ভাবে রংপুর বিভাগীয় কমিশনারের তদন্ত। তদন্তে এসি ল্যান্ড দোষী সাব্যস্ত হওয়ায় পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার শান্তিমুলক বদলী করা হয়েছে।

প্রকাশ, গাইবান্ধা জেলার সাদুল্লাপুর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ জসিম উদ্দিন কর্তৃক দুই সাংবাদিক লাঞ্ছিত ঘটনাটি গাইবান্ধা সহ গোটা দেশে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। লাঞ্ছিত হয় যমুনা টিভির সাংবাদিক জিল্লুর রহমান মন্ডল পলাশ ও সময় টিভির সাংবাদিক হেদায়েতুল ইসলাম বাবু। তাদের সাথে অসৌজন্য মূলক আচরণ করেন এসি ল্যান্ড মোঃ জসিম উদ্দিন।

অভিযোগে জানা যায়, সাদুল্যাপুর উপজেলার ধাপেরহাট ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা শামসুল ইসলাম মন্ডল কর্তৃক সরেজমিন তদন্ত করে মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে ১/১ খতিয়ান ভুক্ত ১৪ শতাংশ জমি নামজারির প্রস্তাব করেন। গত ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ইং তারিখে এই জমি নামজারির জন্য আবেদন করেন পীরগঞ্জ উপজেলার সয়েকপুর মৌজার মৃত শাহাদত হোসেন মন্ডলের দুই পুত্র জাহিদুল ইসলাম জাহাঙ্গীর, উমর ফারুক মন্ডল, স্ত্রী জাহানারা বেগম, তিন কন্যা শহিদা বেগম, মরিয়ম বেগম ও শরিফা বেগমসহ মোট ৬ জন। আবেদন পত্রে স্পষ্ট উল্লেখ করা হয় ১/১ খতিয়ানের জমির তথ্য। যে দাগের জমি নামজারি করে দেন সেই জমির সাবেক দাগ নং ৭৬, হাল দাগ নং ১১২।

মজার ব্যাপার হলো- এই দাগ নাম্বারের জমি ১৯৭৮ সালে রামকান্ত সাহার পুত্র পুর্ণ চন্দ্র সাহার নামে ১৩ শতাংশ জমি লিজ প্রদান করা হয়েছে। যার আবেদন নং ১১৩/৭৮, লিজ প্রদানের তারিখ- ১৫/০৭/১৯৭৮ ইং। কিন্তু নামজারির আবেদন পত্র মতে জানা যায়, ১৯৮৪ সালের ১২, ১৮ ও ২৩ জানুয়ারি তারিখে রেজিঃকৃত ৭১৩, ৭১৪ ও ৭১৫ নং তিনটি দলিল নামজারির আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তাই স্পষ্টত, যে ১৩ শতাংশ জমি ১৯৭৮ সালে পুর্ণ চন্দ্র সাহার নামে লিজ প্রদান করা হয়, যার সুনির্দিষ্ট প্রমাণ প্রকাশিত গেজেট রয়েছে! সেই জমি রেজিঃ হয় কিভাবে? শুধু তাই নয়, ৭১৩, ৭১৪, এবং ৭১৫ নং একই সিরিয়ালের তিনটি দলিল ১২ জানুয়ারি থেকে ২৩ জানুয়ারি মোট ১২ দিনে রেজিঃ সম্পন্ন হয় কিভাবে? এই ১২ দিনে সাদুল্যাপুর উপজেলায় আর কোন জমি রেজিস্ট্রি হয়নি বা একটা জমিও রেজিঃ হয়নি(!)?

এদিকে, অফিস ডে সহ মাত্র ১ মাস ১০ দিনে তড়িঘড়ি করে উল্লেখিত জমির নামজারি করা হয়। ২১/০৯/২০১৯ ইং তারিখে নামজারির আবেদন মতে জানা যায়, তহশীলদার মোঃ শামসুল ইসলাম মন্ডল প্রস্তাবে স্বাক্ষর করেন ২৯/১০/২০১৯ ইং, দূর্নীতির দোসর হিসেবে এই নামজারির পর্চায় ১৭/১১/২০১৯ ইং তারিখে স্বাক্ষর করেন তৎকালীন সময়ে সাদুল্যাপুর এসি ল্যান্ড অফিসে কর্মরত সার্ভেয়ার মোঃ আরিফুর রহমান। তিনি বর্তমানে সুন্দরগঞ্জ উপজেলা এসি ল্যান্ড অফিসে কর্মরত আছেন। আরেকজন দুর্নীতির দোসর রয়েছেন তৎকালীন সময়ে এসি ল্যান্ডের অতিরিক্ত দায়িত্ব প্রাপ্ত কর্মকর্তা ও সাদুল্যাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ নবীনেওয়াজ। তিনি পর্চায় চুড়ান্ত স্বাক্ষর করেন ২৯/১১/২০১৯ ইং তারিখে। তিনি ২০২১ সালে এডিসি হিসেবে পদোন্নতি পেয়ে কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে যোগদান করেন।

এদিকে, সাদুল্যাপুরের এসি ল্যান্ড মোঃ জসিম উদ্দিন ভাল মনের মানুষ এবং তাকে মানবিক এসি ল্যান্ড বলা হলেও সম্প্রতি গাইবান্ধার দুই সাংবাদিকের সাথে তার রুক্ষ আচরণের কারণে থলের বিড়ালের ন্যায় বেড়িয়ে আসে উল্লেখিত দুর্নীতির এই নাতিদীর্ঘ খতিয়ান।

সুত্র জানায়, সাদুল্যাপুর উপজেলার ধাপেরহাট এলাকায় সরকারি তালিকা ভুক্ত বা সরকারের ১/১ অর্পিত ‘ক’ তফসিলভুক্ত সম্পত্তি অধিগ্রহণ ও ক্ষতিপূরণ বাবদ কমপক্ষে ৩ কোটি টাকা উত্তোলন করে আত্মসাত করেন। এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে গত ১৮ জুন বৃহস্পতিবার বিকেল পৌনে ৪টার দিকে তথ্য সংগ্রহের জন্য এসি ল্যান্ড মোঃ জসিম উদ্দিনের বক্তব্য নিতে গেলে রহস্যজনক কারণে তিনি দুই সাংবাদিকের প্রশ্নের কোন সদুত্তর না দিয়ে সাংবাদিকদের সাথে আঙ্গুল উঁচিয়ে অশোভন আচরণ করেন। এ সময় তিনি প্রথমে তাদের ব্যবহৃত মোবাইল ও ক্যামেরা টেবিলে রাখতে বলেন। পরে প্রশ্নের মুখে বুম ও ক্যামেরা দেখে ক্ষুব্ধ হয়ে তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন। এ ঘটনায় স্থানীয় সাংবাদিক মহলসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে তীব্র ক্ষোভ ও এসি ল্যান্ডের বিরুদ্ধে ব্যাপক সমালোচনাসহ মিশ্র প্রতিক্রিয়া শুরু হয়।

অপর দিকে, গত ২৪ জুন’ ২০২৬ ইং রংপুর বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ের রাজস্ব শাখার সিনিয়র সহকারী কমিশনার উত্তম কুমার দাশ কর্তৃক ০৫.৪৭.০০০০.০০৮.০১.০০৩.
২৫.২৮০ স্বারক নাম্বার সম্বলিত এক পত্রে সাদুল্যাপুরের বিতর্কিত এসি ল্যান্ড মোঃ জসিম উদ্দিনকে শাস্তিমূলক পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার সহকারী কমিশনার(ভুমি) হিসেবে বদলী করা হয়।

মজার ব্যাপার হলো- ঢাকা-রংপুর মহাসড়ক ছয় লেনে উন্নীতকরণ প্রকল্প হাতে নেয়া হলে সরকার সাদুল্লাপুরের হাসানপাড়া মৌজায় সাড়ে ছয় শতক জমি অধিগ্রহণ করে। কিন্তু দুর্নীতিবাজ তহশিলদার শামসুল ইসলাম মন্ডলের সাথে মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে জাল দলিল সৃজন করে নামজারি করে নেয়া উল্লেখিত জাহিদুল ইসলাম জাহাঙ্গীরসহ তার পরিবারের ৬ সদস্যের নামে এই জমির ক্ষতিপূরণ বাবদ ২০২৫ সালের ২৫ নভেম্বর জমি ও স্থাপনা বাবদ ২ কোটি ৮০ লাখ ৫৯ হাজার ৯৩২ টাকা প্রদান করা হয়।

এই খবর পেয়ে পরবর্তীতে সম্পত্তির মালিকানা দাবি করে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের ভূমি অধিগ্রহণ (এলএ) শাখায় আপত্তি দিয়েছিলেন একই ইউনিয়নের আসাদুল্লাহ ফারুকী নামের আরেক জনৈক ব্যক্তি। তিনি নামজারি বাতিলের জন্য মিস কেস করেন। তিনি দাবি করেন সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে প্রতিপক্ষ জাহেদুল ইসলাম জাহাঙ্গীর ক্ষতিপূরণের টাকা উত্তোলন করে নিয়েছেন। এই আবেদনের প্রেক্ষিতে বর্তমান ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা মোঃ আতিয়ার রহমান তদন্ত রিপোর্টে সরকারি স্বার্থ জড়িত থাকার কথা উল্লেখ করেন। ফলে
বেড়িয়ে আসে থলের বিড়ালের ন্যায় তৎকালীন সময়ের তহশীলদার মোঃ শামসুল ইসলাম মন্ডলের দুর্নীতির নাতিদীর্ঘ খতিয়ান। মুলতঃ এই সম্পত্তির মালিকানা নিয়ে খোদ ভূমি অফিসেরই পৃথক পৃথক দুটি ভিন্ন প্রতিবেদন রয়েছে। যার মধ্যে ২০২২ সালের ২৯ ডিসেম্বর সাদুল্লাপুরের এসি ল্যান্ড এক প্রতিবেদনে নিশ্চিত করেন যে এই সম্পত্তিতে সরকারের কোন স্বার্থ জড়িত নেই। অথচ ২০২৫ সালের ২৩ এপ্রিল ধাপেরহাট ইউনিয়ন ভূমি অফিসের আরেক তহশীলদার মোঃ আতিয়ার রহমানের প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন, এই সম্পত্তিতে সরকারি স্বার্থ জড়িত আছে। ইউনিয়ন ভূমি অফিসের ওই প্রতিবেদনে স্পষ্ট উল্লেখ করা হয়, সাবেক ৭৬ দাগের সাড়ে ছয় শতক জমি অর্পিত ‘ক’ তালিকাভুক্ত, যা বাংলাদেশ গেজেটের ৪৫১০ নম্বর পৃষ্ঠার ১২৪ নম্বর ক্রমিকে প্রকাশিত হয়েছে।

সুত্র আরো জানায়, সংশ্লিষ্ট ভূমি অফিসের দুই রকম প্রতিবেদন ও সাদুল্লাপুরের এসিল্যান্ড মোঃ জসিম উদ্দিন কর্তৃক সাংবাদিকদের সাথে অশোভন আচরণের বিষয়টি তাৎক্ষণিক ভাবে জেলা প্রশাসক মাসুদুর রহমান মোল্লাকে জানালে তিনি খাসজমি সংক্রান্ত কমিটির সভাপতি ও সাদুল্লাপুরের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদুল হাসানের বক্তব্য নেয়ার পরামর্শ দেন। কিন্তু ইউএনও এ বিষয়ে রহস্যজনক কারণে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি! কিন্তু এ বিষয়ে কথা বলা যাবে না কেন এমন প্রশ্নের উত্তরে ইউএনও উল্টো এসিল্যান্ডের মত আচরণের হুমকি দেন। পরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে ভূমি অধিগ্রহণ শাখার কর্মকর্তা আশরাফুল হকের মতামত জানতে তার কাছে গেলেও তিনি মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) আল মামুন কর্তৃক ‘নিয়ম মেনে প্রকৃত মালিককেই অধিগ্রহণের টাকা পরিশোধ করা হয়েছে বলে জানান। বিষয়টি মূলতঃ সুপরিকল্পিত ও সুক্ষ্ম ভাবে সম্পন্ন করা হয়েছে বটে! তাই বিষয়টি কি সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের সকল স্তরের কর্মকর্তা কর্মচারীর সকলেই কি অবগত ছিলেন?

সুতরাং এ ব্যাপারে এলাকার সচেতন মহল মতামত ব্যক্ত করেছেন যে, বিষয়টিতে যেহেতু সরকারি স্বার্থ জড়িত এবং কমপক্ষে তিন কোটি টাকার দুর্নীতি। তাই এলএ শাখার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা/কর্মচারী সহ এসি ল্যান্ড ও তার অফিসের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা কর্মচারী ওতোপ্রত ভাবে জড়িত রয়েছে। সুতরাং বিষয়টির সাথে যে কর্মকর্তা/কর্মচারীই জড়িত থাক, নিরপেক্ষ তদন্ত সাপেক্ষে তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ প্রয়োজন,

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

© All rights reserved © 2025

: :